ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী রাজনীতিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনসংক্রান্ত একটি চিঠিতে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন ও দলের সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে সিআইডি।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে কলকাতার হরিশ চ্যাটার্জি রোডে অবস্থিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে পৌঁছায় সিআইডির একটি দল। একই সময়ে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়েও তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হয়।
অভিযানের সময় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরে সিআইডি সদস্যরা বাসভবনে প্রবেশ করে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে দলের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে অবস্থান করছেন জেনেও তাদের অনুপস্থিতিতে এ ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে।
জানা গেছে, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে স্পিকারের কাছে একটি চিঠি জমা দেওয়া হয়েছিল। ওই চিঠিতে প্রায় ৮০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে কয়েকজন বিধায়ক পরে অভিযোগ করেন, তাদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।
এ অভিযোগের ভিত্তিতে বিধানসভার প্রধান সচিব মামলা দায়ের করলে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। সেই তদন্তের অংশ হিসেবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন ও দলের কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে আরেকটি আলোচনার জন্ম দিয়েছেন অভিনেতা ও তৃণমূল সাংসদ দেব। পূর্ব মেদিনীপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে আয়োজিত এক প্রশাসনিক বৈঠকে তার উপস্থিতি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। তবে পরে দেব স্পষ্ট করে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তার আস্থা ও সমর্থন অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, তৃণমূলের সাবেক প্রভাবশালী নেতা ও বিধাননগর পুরসভার সাবেক চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্তকে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার তাকে আদালতে নেওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তার দিকে ডিম, টমেটো ও গোবর নিক্ষেপ করে।
সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

