সরেজমিনে জানা যায়,গত রোববার (৭ জুন) রাতে হাসপাতালের রান্নাঘরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় টাইলস বসানোর কাজ চলছিল। নিয়ম অনুযায়ী পুরোনো প্লাস্টার বা আস্তরণ অপসারণ কিংবা খোদাই করে টাইলস বসানোর কথা থাকলেও তা না করে সরাসরি পুরোনো দেয়ালের ওপর টাইলস লাগানো হচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিকরা কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও শ্রমিকরা সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার মুখে রাতেই লাগানো টাইলস খুলে ফেলা হয়।
এর পরদিন সোমবার (০৮ জুন) দুপুরে হাসপাতালের পুরোনো ভবনের নার্সদের কক্ষে টাইলস বসানোর কাজেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। দেখা যায়,মেঝের প্লাস্টার না ভেঙে এবং কোনো ধরনের চিপিং ছাড়াই দুর্বল সিমেন্ট-বালুর মিশ্রণ ব্যবহার করে সরাসরি টাইলস বসানো হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন,তাদের প্রতিবাদ না থাকলে ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ শেষ করে বিল উত্তোলন করে চলে যেত। এর আগে হাসপাতালের ছাদ ঢালাই কাজেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। সরকারি অর্থে পরিচালিত জনগুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানের সংস্কারকাজে তারা স্থায়ী ও মানসম্মত সমাধান চান।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘তাসনিয়া কনস্ট্রাকশন’-এর প্রতিনিধি নান্টু মিয়া বলেন, “কাজের তদারকির দায়িত্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের,আমার নয়।” তার এমন বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে আরও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া বলেন, অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর রোববার রাতেই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সোমবার পুনরায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের নিয়ম মেনে কাজ সম্পন্ন করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে।
অভিযোগের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন,“কাজের মান শতভাগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিয়মের বাইরে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”
এদিকে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে মৌলভীবাজার জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত দেবনাথ মঙ্গলবার (০৯ জুন) বলেন,অভিযোগ পাওয়ার পর সকালে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করা হয়। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে দেয়ালে বসানো ত্রুটিপূর্ণ টাইলস অপসারণ করা হয়েছে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। বাকি কাজ নির্ধারিত মান বজায় রেখে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতি সহ্য করা হবে না। পুরো প্রকল্প এখন নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন কমলগঞ্জের সর্বস্তরের জনগণ।

