হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, হামলা, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন রুকন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে ১০ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৮ জুলাই হবিগঞ্জ পৌরসভার কোর্ট মসজিদ এলাকায় এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনের শহীদ রিপন শীলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং শোকসভায় অংশ নিতে সেখানে অবস্থানরত ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, হামলায় জেলা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা আহত হন। এছাড়া সংঘর্ষের সময় একাধিক আইফোন, একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন এবং নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মামলার নামীয় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সারজিস আলম, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, নাহিদ উদ্দিন তারেক, নুর আলম চৌধুরী, ফখরুল জাকির, আ. হাই কামাল, রুহাম গাজী ও ওয়াদুদ মাহমুদ চৌধুরী।
অন্যদিকে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এর আগেই এনসিপিও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলে। দলটির দাবি, ২৮ জুলাই পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে ছাত্রদলের হামলায় সারজিস আলমসহ অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। এনসিপির অভিযোগ, হামলায় তাদের একজন কর্মী একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন এবং কয়েকটি গণমাধ্যমের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে।
এনসিপির ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম নিরাপত্তার জন্য একটি ভবনে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও মামলার পর হবিগঞ্জে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

