সত্যজিৎ দাস:
দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ কিছুটা কমলেও সিলেট বিভাগে পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। শিশুদের পাশাপাশি বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছেন হাম ও হামের উপসর্গে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী,সিলেট বিভাগে এ পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার মানুষ হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে প্রায় এক হাজারই প্রাপ্তবয়স্ক।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়,চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে সিলেট বিভাগে হামের সংক্রমণ শুরু হয়। শুরুতে আক্রান্তদের অধিকাংশই ছিল শিশু। তবে জুলাই মাসের শুরু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকে। প্রতিদিনই হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন বিভিন্ন বয়সী রোগী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী,বিভাগের চার জেলায় এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ৭ হাজার ৯৬৭ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৭ হাজার ২৭৩ জন হামের উপসর্গ এবং ৬৩৪ জন নিশ্চিত হাম রোগী হিসেবে চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭ হাজার ৪৮৪ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২৮৬ জন। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১১০ জন।
সিলেটে হামের চিকিৎসার জন্য শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। হাসপাতালটির আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. মিজানুর রহমান জানান,বুধবার পর্যন্ত সেখানে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ হাজার ১২০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ৮০৭ জন। চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের মধ্যে ৫২০ জন ছিলেন প্রাপ্তবয়স্ক।
তিনি জানান,বর্তমানে হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ডা. মিজানুর রহমান বলেন,গত এক মাস ধরে প্রাপ্তবয়স্ক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বড়দের অনেকেই জ্বর,কাশি,শ্বাসকষ্ট,শরীরে ফুসকুড়ি, নিউমোনিয়া,ডায়রিয়া ও হৃদ্যন্ত্রের জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তবে চিকিৎসা নিয়ে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।
তিনি আরও বলেন,অনেক রোগী জানিয়েছেন, ছোটবেলায় তারা হামের টিকা নিয়েছিলেন। আবার অনেকে টিকা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে টিকা না নেওয়া এবং অপুষ্টিতে ভোগা মানুষদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের শিশু আক্রান্ত হওয়ার পর বড়রাও সংক্রমিত হচ্ছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেটের পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম জানান,হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা এখনো উল্লেখযোগ্য হলেও নতুন করে বাড়ছে না,এটি স্বস্তির বিষয়। তার মতে,বর্তমানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা নেই।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন,হাম প্রতিরোধে টিকাদান নিশ্চিত করা,পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যদেরও সচেতন থাকতে হবে।

