ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার ছেলে ফাবিও লুইজ লুলা দা সিলভা, যিনি ‘লুলিনহা’ নামে পরিচিত, তার বিরুদ্ধে পুলিশি তদন্তের অনুমতি দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতি।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আদালতসংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে। তবে তদন্তের অনুমোদন দেওয়া হলেও অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফোলহা দে সাও পাওলো জানিয়েছে, চিকিৎসায় ব্যবহৃত গাঁজার বাজারজাতকরণ-সংক্রান্ত বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এক লবিস্টের যোগাযোগ বা তদবিরে লুলিনহার কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে পুলিশ।
ওই লবিস্ট বর্তমানে একটি বড় আর্থিক জালিয়াতি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অবসরপ্রাপ্ত ও পেনশনভোগীদের অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এই কেলেঙ্কারির জেরে গত বছর লুলা সরকারের সামাজিক নিরাপত্তামন্ত্রী এবং জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা ইনস্টিটিউটের (আইএনএসএস) প্রধান পদত্যাগ করেন।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ব্রাজিলের কংগ্রেসের একটি কমিটি লুলিনহার ব্যাংক হিসাব তদন্তের অনুমোদন দেয়। অভিযোগ ছিল, জালিয়াতির অর্থে পরিচালিত কয়েকটি ব্যবসায় তিনি গোপন অংশীদার ছিলেন।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট লুলা বলেছেন, তার ছেলে আইনের ঊর্ধ্বে নন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমার ছেলে যদি কোনো অভিযোগের মুখোমুখি হয়, তাহলে অন্য সবার মতোই আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবে। তাকে কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে না।”
অন্যদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো এই তদন্তের প্রসঙ্গ টেনে রাজনৈতিক মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, একই ধরনের অভিযোগ বলসোনারো পরিবারের কারও বিরুদ্ধে উঠলে সরকার আরও কঠোর ব্যবস্থা নিত।
উল্লেখ্য, ৮০ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভাকে আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেওয়ার কথা রয়েছে। এমন সময়ে তার ছেলের বিরুদ্ধে তদন্তের অনুমতি দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

