মো আলম, বান্দরবান প্রতিনিধি:
রোয়াংছড়িতে পিআইও’র বিরুদ্ধে কাজ না করেই প্রকল্পের টাকা লোপাটের অভিযোগ। বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে টেস্ট রিলিফ (টিআর), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও কাবিটাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ না করেই সরকারি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিলটন দস্তিদারের বিরুদ্ধে।
২০২৪-২০২৫ এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের বরাদ্দে এই ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র ফুটে উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার ২নং তারাছা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড এলাকায় প্রথম ধাপে কাবিটা (নগদ অর্থ) প্রকল্পের আওতায় ‘লেগ্রীব্রাং হতে কমদমপ্রু পাড়া যাওয়ার রাস্তা মাটি দ্বারা পুনঃনির্মাণ’ নামে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে রয়েছেন উমংসিং মারমা। একইভাবে ৪নং ওয়ার্ডের একটি প্রকল্পে সভাপতি করা হয়েছে অংপ্রুহ্লা মারমাকে।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় ধাপে ৫নং ওয়ার্ডের ‘অংতং পাড়া হতে ছাংকিং পাড়া যাওয়ার রাস্তা মাটি দ্বারা পুনঃসংস্কার’ নামে ৫.৩০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেখানো হয়, যার সভাপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য মংক্যথোয়াই মারমা। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই সড়কটি অনেক আগেই এলাকাবাসী নিজেদের অর্থায়নে সংস্কার করেছিলেন। পিআইও মিলটন দস্তিদার প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটারের এই পুরোনো রাস্তাকেই নতুন প্রকল্প দেখিয়ে সম্পূর্ণ টাকা ও খাদ্যশস্য আত্মসাৎ করেছেন।
সরেজমিনে গিয়েও সেখানে নতুন কোনো সংস্কার কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য অভিযোগ করে বলেন:
”ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি প্রকল্পের কাজ করতে গেলে প্রতিটি বিল উত্তোলনের আগে পিআইও-কে ১৬ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রিম কমিশন দিতে হয়। কমিশন না দিলে বিল আটকে রেখে চরম হয়রানি করা হয়। অনেক সময় ইউপি সদস্যদের নামমাত্র সভাপতি বানিয়ে, সামান্য কাজ দেখিয়ে সিংহভাগ টাকাই পিআইও নিজের পকেটে ভরেন।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি রোয়াংছড়িতে অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পিআইও মিলটন দস্তিদার সিন্ডিকেট তৈরি করে এই অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন। ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জিম্মি করে কমিশন আদায়ের পর তবেই বিল ছাড় করা হয়। ২০২৪-২০২৫ ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের টিআর বরাদ্দের একটি বড় অংশ তিনি শুরুতেই নিজের ভাগে নিয়ে নিয়েছেন বলে এলাকায় তীব্র সমালোচনা চলছে।
৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতি মংক্যথোয়াই মারমা পিআইও’র এই অনিয়মের কথা স্বীকার করে বলেন, “রাস্তার কাজের জন্য ৩ লাখ টাকা সমমূল্যের ৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। আমরা আংশিক কাজ করেছি। বাকি টাকা থেকে নিজের পার্সেন্টেজ (পিসি) রেখে অবশিষ্ট টাকা পিআইও-কে ফেরত দেওয়া হয়েছে।”
দুর্নীতির এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিলটন দস্তিদার দাবি করেন, “আমাদের দপ্তরের সব কাজ নিয়ম মেনেই ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে, কোনো সমস্যা নেই।” তবে প্রকল্পের অনিয়ম ও অর্থ ফেরত নেওয়ার বিষয়টি তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাজমিন আলম তুলি জানান, “প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ে বা কাজে কোনো ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

