স্টাফ রিপোর্টার,এমএ আউয়াল আশিক:
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় এক সরকারি চাকরিজীবী দম্পতির বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুস শুকুর আহমেদ এবং তার স্ত্রী ইছাপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মিনারা আক্তার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নিমতলা এলাকায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের পাশে অবস্থিত সুখের ঠিকানা হাউজিং লিমিটেড আবাসিক প্রকল্পে বিভিন্ন সময়ে একাধিক প্লট ক্রয় করেছেন এই দম্পতি।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৮ জুলাই ও ২ সেপ্টেম্বর সিরাজদিখান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধিত ৪৯৭৮ ও ৬০৭৯ নম্বর দলিলের মাধ্যমে কাদিশাল ও হাজিগাঁও মৌজায় আরএস ২০৪৭ নম্বর দাগের বি ব্লকের ১৩৮ নম্বর আড়াই কাঠার একটি প্লট ক্রয় করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বর্তমানে প্লটটির বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা।
পরবর্তীতে জমিটির নামজারি খতিয়ান নম্বর ৪০৭০ এবং মিউটেশন মামলা নম্বর ৫১৩৭/২০২১-২২ সম্পন্ন হয়।
এরপর ২০২২ সালের ২৭ অক্টোবর হাজিগাঁও মৌজার আরএস ৩০০ ও ২৯৩ নম্বর দাগে ডায়মন্ড ব্লক, রোড নম্বর-৬ এর ৫৯৯ নম্বর প্রায় আড়াই কাঠার আরেকটি প্লট ১০৯৬৭ ও ১০৯৬৮ নম্বর দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্লটটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। এ জমির নামজারি খতিয়ান নম্বর ১৫৭৬ এবং মিউটেশন মামলা নম্বর ৫৮৬০/২০২২-২৩।
এছাড়া চলতি বছর মিনারা আক্তারের নামে কাদিশাল মৌজার ২১০২ নম্বর দাগে এফ ব্লকের ১৩২ নম্বর তিন কাঠার একটি প্লট ২৪ মে ২০২৬ তারিখে ৪৫৬৮ নম্বর দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, প্লটটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। জমিটির নামজারি খতিয়ান নম্বর ২০২৬-১০০১০৯ এবং মিউটেশন মামলা নম্বর ১৯৮৬২/২০২৫-২৬।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মুন্সীগঞ্জ সদর এলাকায় প্রায় ৫৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি দোকান, কাচারী এলাকায় প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট এবং ঢাকার মিরপুর-১০ এলাকায় আরও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে এই দম্পতির নামে। এছাড়া তাদের দুই সন্তান ঢাকার একটি উচ্চমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে, যার পেছনে মাসে প্রায় অর্ধলাখ টাকা ব্যয় হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ইছাপুরা মৌজার ভিপি কেস নং-২৮৫/৭৬ অনুযায়ী সরকারি লিজকৃত জমিতে প্রায় ৮০০ বর্গফুটের একটি পাকা ভবনে বর্তমানে বসবাস করছেন আব্দুস শুকুর আহমেদ।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, আব্দুস শুকুর আহমেদ চাকরি জীবন শুরু করেন সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পিয়ন পদে। পরে পদোন্নতি পেয়ে অফিস সহকারী এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন উপজেলা ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালন করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সিরাজদিখান উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত অবস্থায় ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হন। এ সময় তিনি বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পের মালিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে নামজারিসহ বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, ভূমিহীন দেখিয়ে সরকারি খাস জমি নিজের নামে লিজ নেওয়ার ঘটনাও রয়েছে। টঙ্গীবাড়ী ও লৌহজং উপজেলা ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৪ সালে তিনি সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ে উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, ত্রয়োদশ গ্রেডের একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আব্দুস শুকুর আহমেদ কীভাবে এত বিপুল সম্পদের মালিক হলেন, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আব্দুস শুকুর আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

