এম.শাহীন আল আমীন,জামালপুর জেলা প্রতিনিধি :
পরিত্যাক্ত ঘোষনার এক যুগ পরেও স্কুল মাঠ থেকে জরাজীর্ণ ও ঝুকিঁপূর্ণ ভবনটি অপসারণ করা হয়নি। ভবনটি ধ্বসে পড়ে যে কোন সময় দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে।ঝুঁিকপূর্ণ ভবনটি জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর গ্রামের মেরুরচর সরকারী প্রাইমারী স্কুল এবং হাসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অবস্থিত। এটি মেরুরচর সরকারি প্রাইমারী স্কুলের পুরাতন ভবন।
মেরুরচর গ্রামের বাসিন্দা আতিকুর রহমান বলেন, মেরুরচর সরকারি প্রাইমারী স্কুল ও মেরুরচর হাছেন আলী উচ্চ বিদ্যালয় একই ক্যাম্পাসে অবস্থিত। প্রাইমারী ও হাইস্কুল মিলে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়া লেখা, খেলাধুলা ও চলাফেরা করে থাকে। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা সেই ঝুকিঁপূর্ণ ভবনের ভিতরে বা আশে পাশে বসে বিশ্রাম নেয় ও খেলাধুলা করে। তিনি বলেন, যে কোন সময় ভবনটি ধ্বসে পড়ে প্রাণহানিসহ বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। ভবনটি অপসারণ করা জরুরী।
মেরুরচর গ্রামের শিক্ষার্থী অভিভাক সজিব টিকাদার বলেন, প্রাইমারী স্কুলের পুরাতন ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। কিন্তু অপসারণ করা হয়নি। কোন নিরাপত্তা বেষ্টনিও নেই। ভবন ঘেষেই বসত বাড়ি। নিরাপত্তার স্বার্থেই ভবনটি অপসারনের বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া দরকার।
মেরুরচর হাছেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ভবনটির জায়গা হাই স্কুলের। কিন্তু ভবন প্রাইমারী স্কুলের। অপসারনের বিষয়ে বার বার বলা হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেরুরচর সরকারি প্রাইমারী স্কুলের পুরাতন আধা পাকা ভবনটির বয়স প্রায় ৫০ বছর। বয়সের ভাড়ে ভবনটি জরাজীর্ণ। ব্যবহারের অযোগ্য হওয়ায় পাশেই একটি দুতলা নতুন ভবন নির্মাণ হয়। এর পর থেকে নতুন ভবনে পাঠদান চলমান আছে। পুরাতন ভবনটি প্রায় ১২ বছর পূর্বে পরিত্যাক্ত ঘোষনা হয়। কিন্তু অপসারনের বিষয়ে কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দুই স্কুলের সামনেই কংকাল সার হয়ে বিপদজনক অবস্থায় দাড়িঁয়ে আছে পুরাতন ভবনটি।
মেরুরচর সরকারি প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক আয়শা সিদ্দিকা বলেন, বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বকশীগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু হাসান মো. রেজাউল করিম বলেন, ঝুকিপূর্ণ ভবনটি অপসারনের বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির একটি মিটিং করে রেজুলেশন পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রেজুলেশন পাওয়ার পর পুরাতন ভবন অপসারনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতম কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। অনুমতি পেলে অপসারনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তবে এর পূর্ব পর্যন্ত সেই ভবনের ভিতরে এবং আশেপাশে যাতে কোন শিক্ষার্থী বা সাধারণ মানুষ না যায় তার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সর্তক করা হয়েছে।

