সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি বিরল প্রজাতির বিষহীন ক্যান্টর কুকরি সাপ উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে শ্রীমঙ্গল শহরের শাজি বাজার এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলামের বাসায় হঠাৎ একটি সাপ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। সে সময় বাসায় কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় তারা আতঙ্কিত হয়ে প্রবাসে থাকা মেয়ের জামাইকে বিষয়টি জানান। পরে তিনি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটি নিরাপদে উদ্ধার করেন। পরে সাপটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
সাপটির পরিচয় নিশ্চিত করেন বন্যপ্রাণী গবেষক আদনান আজাদ। তিনি জানান, এটি ক্যান্টর কুকরি সাপ (বৈজ্ঞানিক নাম: Oligodon cyclurus)। এটি কলুব্রিডি পরিবারের অলিগোডন (Oligodon) গণের একটি অত্যন্ত বিরল ও সম্পূর্ণ বিষহীন প্রজাতির সাপ। নেপালি গোর্খা সৈন্যদের ব্যবহৃত বাঁকা ‘কুকরি’ তলোয়ারের মতো এদের পেছনের দাঁতের গঠন হওয়ায় এ প্রজাতির নাম ‘কুকরি সাপ’ রাখা হয়েছে। ১৮৩৯ সালে প্রকৃতিবিদ থিওডোর ক্যান্টর প্রথম এ প্রজাতির বর্ণনা দেন। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত,নেপাল,চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এদের বিস্তৃতি রয়েছে।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন,ক্যান্টর কুকরি সাপ সাধারণত শান্ত স্বভাবের। তবে বিরক্ত করা হলে আত্মরক্ষার জন্য কামড় দিতে পারে। এটি সম্পূর্ণ বিষহীন এবং মূলত টিকটিকি,টিকটিকির ডিম ও ছোট প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকে। নরম মাটি,শুকনো পাতা কিংবা ঝোপঝাড়ের নিচে লুকিয়ে থাকতে এরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।
পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ বলেন,বিরল ও নিরীহ বন্যপ্রাণী সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে অনেক সময় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে সাপ মেরে ফেলেন। অথচ অধিকাংশ সাপই পরিবেশের জন্য উপকারী। কোনো অজানা সাপ দেখা গেলে সেটিকে হত্যা না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বন বিভাগ বা বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
বন্যপ্রাণী সংশ্লিষ্টরা জানান,জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিরল প্রজাতির প্রাণী রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং উদ্ধারকৃত বন্যপ্রাণীকে দ্রুত বন বিভাগের মাধ্যমে প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

