সত্যজিৎ দাস:
ক্ষমতার পরিবর্তনের পর বিএনপিতে বাড়ছে নতুন যোগ দেওয়া নেতাকর্মীদের উপস্থিতি। এর মধ্যে কথিত ‘হাইব্রিড’ ও অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অভিযোগ,অন্য দল থেকে আসা কিছু সুবিধাবাদী ব্যক্তি বিএনপির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখলদারি,লুটপাট ও বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
দলের নেতাকর্মীদের দাবি,গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা মামলা,হামলা, নির্যাতন ও নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে বিএনপির পাশে ছিলেন,তাদের অনেকেই এখন মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে দলে যুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের প্রভাব বাড়ছে।
সম্প্রতি বরিশালে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুপ্রবেশকারী ও হাইব্রিড নেতাকর্মীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য তৃণমূল নেতাদের নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন,দীর্ঘ ১৭ বছর কঠিন সময়েও তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরাই দলকে ধরে রেখেছেন। তাদের অবদান ও ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করেই দলকে এগিয়ে নেওয়া হবে। কোনো অবস্থাতেই অনুপ্রবেশকারী বা সুবিধাবাদীদের জায়গা দেওয়া যাবে না।
বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ,ক্ষমতার কাছাকাছি আসার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপিতে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের কেউ কেউ বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নেতাকর্মীদের মতে,এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে দীর্ঘদিনের ত্যাগী কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে। যারা দলের দুঃসময়ে মাঠে ছিলেন, তাদের পরিবর্তে নতুন যোগ দেওয়া অনেকেই গুরুত্ব পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন,বিভিন্ন স্থানে অনুপ্রবেশকারীরা দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। যারা দীর্ঘ সময় দলের সঙ্গে ছিলেন না, তাদের অনেকেই এখন বিএনপির পরিচয়ে সক্রিয় হচ্ছেন। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন,সুবিধাবাদী ও হাইব্রিড নেতাদের কারণে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়তে পারেন। তাই অনুপ্রবেশ ঠেকানোর পাশাপাশি নিবেদিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা জরুরি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,নির্বাচন বা ক্ষমতার পরিবর্তনের সময় বিভিন্ন দলে সুযোগসন্ধানী ব্যক্তিদের প্রবেশের প্রবণতা দেখা যায়। এ ধরনের লোকজন যাতে দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় প্রভাব বিস্তার করতে না পারে,সে বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন,অনুপ্রবেশকারীরা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে চলে গেলে প্রকৃত ত্যাগী নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েন। এতে দলের সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
বিএনপির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা,অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা। দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে কঠোর বার্তা দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হয়,সেটিই এখন দেখার বিষয়।

