মোঃ শরিফ বিল্লাহ, ডোমার(নীলফামারী)প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডোমারে শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে ডোমার উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৪ তলা ভিতবিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু এবং নীলফামারী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য ও অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (অ্যাব)-এর আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন।
উদ্বোধন শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় অনুষ্ঠানটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দয়াল চন্দ্র রায়ের সঞ্চালনায় ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রায়হানুল হক প্রধান ইউসুফ-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান চৌধুরী শামিম, ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তম্বী, শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের সহধর্মিণী তামান্না ইয়াসমিন, ডোমার উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রেয়াজুল ইসলাম কালু, সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান সুমন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী হাজেরুল ইসলাম, ডোমার পৌরসভার সাবেক মেয়র আলহাজ মনছুরুল ইসলাম দানুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এ সময় সারাদেশের তুলনায় নীলফামারীতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ার বিষয়টি টেনে ক্ষোভ প্রকাশ করে শাহরিন চৌধুরী বলেন, “নির্বাচনে সারাদেশে যেখানে বিএনপির জয়জয়কার অবস্থা, সেখানে আমরা নিজেরাই নিজেদের ডুবিয়েছি; সেই সাথে গোটা নীলফামারী জেলাকেও ডুবিয়েছি।”
নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্ত ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “যারা ভোটের রাজনীতিতে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে, মানুষ তাদেরই ভোট দিয়েছে। নির্বাচনের আগে ঢাকার মানুষ আমাদের ‘মফিজ’ বলতো, আর যখন আমরা সঠিক জায়গায় ভোট দিতে ব্যর্থ হলাম, তখন থেকে আমাদের ‘জান্নাতি মফিজ’ বলা শুরু করেছে।”
আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচনে আমরা যে ভুল করেছি, আগামী স্থানীয় নির্বাচনে যেন সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আগামী নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে আপনাদের প্রমাণ করতে হবে—আমরা ‘মফিজ’ নই।”
শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান প্রসারে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, “সবাইকে যে ডাক্তার বা প্রকৌশলী হতে হবে—এমন কোনো কথা নেই। যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করতে এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটাতে আমরা কারিগরি কলেজ ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ হাতে নিয়েছি।”
সুধী সমাবেশে তাঁর এমন স্পষ্টভাষী বক্তব্য, স্কুলের ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং কারিগরি কেন্দ্রের জায়গা পরিদর্শনের ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহল এটিকে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান এবং এলাকার শিক্ষা-উন্নয়নে এক বাস্তবমুখী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

