ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, শিক্ষা সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান ককরোচ আন্দোলনের মধ্যে এবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় সরকার ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানান, বুধবার বিকেল থেকে আন্দোলনের নেতাদের কাছে চারটি পৃথক আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার যেকোনো সময় আলোচনায় বসতে প্রস্তুত এবং শিক্ষার্থীদের সুবিধাজনক সময়েই বৈঠক করতে চায়।
তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডাও অংশ নেবেন। তার কার্যালয় কিংবা সরকারি বাসভবনে আলোচনা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
জিতেন্দ্র সিংয়ের ভাষ্য, সরকার এ বিষয়টিকে মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখছে না। বরং আলোচনার মাধ্যমে ধাপে ধাপে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে চায়। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলোর ধারাবাহিক অংশ হিসেবেই এ সংলাপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আন্দোলনকারীদের প্রতি সংলাপে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের ইতিবাচক সমাধান সম্ভব।
অন্যদিকে, দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, পুলিশ তাদের জানিয়েছে যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা নিজের বাসভবনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করতে চান।
তবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে আন্দোলনকারীরা। সৌরভ দাস বলেন, তারা কোনো মন্ত্রীর বাসভবন বা দপ্তরে গিয়ে আলোচনা করবেন না। তাদের মতে, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রীদেরই আন্দোলনস্থলে এসে কথা বলা উচিত।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তাজনিত কোনো সমস্যা থাকলে যন্তর মন্তরের কাছাকাছি নিরপেক্ষ কোনো স্থানে বৈঠক করতে তারা প্রস্তুত।
সৌরভ দাসের দাবি, আন্দোলনকারীরা শুরু থেকেই আলোচনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে সেই আলোচনা হতে হবে সম্মানজনক ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশে, যাতে চলমান সংকটের কার্যকর সমাধান বেরিয়ে আসে।

