হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করাই যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশ্লেষণে তেহরানভিত্তিক সাংবাদিক রেসুল সারদার আতাস বলেন, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের কোনারাক, চাবাহার, কেশম, আবু মুসা, কিশ দ্বীপ, ওমিদিয়েহ, বুশেহর এবং বন্দর আব্বাসসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আঘাত হেনেছে যুক্তরাষ্ট্র।
তার মতে, কিশ দ্বীপ ও বন্দর আব্বাস ইরানের জন্য অত্যন্ত কৌশলগত অবস্থান। এই দুটি এলাকা থেকে হরমুজ প্রণালির ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ পরিচালনা করা হয়। তাই এসব স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলার মাধ্যমে আইআরজিসির সক্ষমতা দুর্বল করার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।
অন্যদিকে, আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এসব হামলায় জ্বালানি ডিপো, জ্বালানিবাহী ট্যাংকার, একাধিক প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, স্যাটেলাইট রাডার এবং মার্কিন সেনাদের অবস্থানস্থল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই সম্ভব হয়নি।
এছাড়া আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় দুটি সুপারট্যাংকারকে তারা থামিয়ে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং চলমান সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তা ইরানের অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।

