টানা বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলা ছাড়া দেশের বাকি সব এলাকায় চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) সকালে সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রীও ভার্চুয়ালি অংশ নেন।
বৈঠক শেষে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, “দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট সবার মতামত বিবেচনায় নিয়ে আপাতত চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলা ছাড়া অন্য সব এলাকায় পরীক্ষা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে চট্টগ্রামের বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর পরীক্ষা আপাতত স্থগিত থাকবে।”
এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে এবং পরীক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর করা মন্তব্যের জেরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ করেছেন এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। তারা বর্তমান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবি জানান।
সায়েন্সল্যাব মোড়: বেলা সাড়ে ১১টার পর ঢাকা কলেজসহ রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন। তারা ধানমন্ডি থেকে নিউমার্কেটমুখী সড়কটি সম্পূর্ণ অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
উত্তরা: একই সময়ে উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনেও শত শত শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর ফলে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
অবরোধের কারণে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে যান চলাচল সম্পূর্ণ ব্যাহত হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেককে হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে দেখা গেছে।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীদের হাতে পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিসংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এ সময় তারা ‘দফা এক, দাবি এক—মিলনের পদত্যাগ’, ‘ভোগান্তির দায় নিতে হবে’ এবং ‘বন্যা-জলাবদ্ধতায় পরীক্ষা নয়’—এমন নানা স্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়ে তোলেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বৈরী আবহাওয়া ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়েই জোরপূর্বক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পরীক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। গতকালের পরীক্ষায় জলাবদ্ধতা, দীর্ঘ যানজট এবং যাতায়াত সংকটের কারণে অনেককে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে বাসা থেকে বের হয়েও চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে।
ঢাকা কলেজের আন্দোলনরত শিক্ষার্থী কাশেম শেখ বলেন, “সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত না করেই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার অনেক শিক্ষার্থী স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেনি। তাই আমরা এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করছি।”
শিক্ষার্থীদের আকস্মিক এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিউমার্কেট থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, “শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাব এলাকায় বিক্ষোভ করছেন। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছি।”
উত্তরা ও সায়েন্সল্যাব উভয় এলাকাতেই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ চলছিল।

