আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশাল:
বরিশাল বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাবের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডেঙ্গু। গত এক সপ্তাহ ধরে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছেন। ইতোমধ্যে ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে বরিশাল নগরীসহ বিভাগের ছয় জেলায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৮ জুলাই বাকেরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম (৫৫) শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর আগে আরও একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিনই নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন। তবে চিকিৎসা শেষে অনেক রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। চিকিৎসকদের মতে, বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার প্রজনন বেড়ে যাওয়ায় এখনই কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মনজু কৃষ্ণ জানান, বর্তমানে হাসপাতালে দুজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। চলতি মাসে এ পর্যন্ত আটজন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকলেও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা পানি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মশার উপদ্রব বেড়েছে। তারা নিয়মিত ও কার্যকর মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও মশকনিধন কার্যক্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপার মুকুল দাস জানান, নগরীতে পাঁচটি টিম নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি প্রয়োজনে জরুরি টিমও মাঠে কাজ করছে। বর্তমানে ৪২ জন শ্রমিক, ১৫টি হ্যান্ড স্প্রে ও ১০টি ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশা নিধনের পাশাপাশি মাইকিং, উঠান বৈঠক এবং ২০ হাজার লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. এম. এম. মনিরুজ্জামান বলেন, শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। প্রত্যেক পরিবারকে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিভাগের মধ্যে বরগুনা, পিরোজপুর ও বালকাঠি এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে।

