যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলেও কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যেতে উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১১ জুলাই) প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, ইরান আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাতে সম্মতি দিয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “যুদ্ধবিরতির সময় শেষ হয়েছে।”
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের কাছ থেকে প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি চাইছে ওয়াশিংটন। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে তেল পরিবহন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, যার প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্যও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কোনো অনুরোধ করেনি। বরং কাতারের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য আলোচনা আয়োজনের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে।
পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, উত্তেজনা প্রশমন এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করার উপায় নিয়ে শুক্রবার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
এদিকে একই দিনে দেওয়া আরেকটি পোস্টে ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, যদি ইরান তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা চালায়, তাহলে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, ইরানকে লক্ষ্য করে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, এ বিষয়ে মার্কিন বাহিনীকে অন্তত এক বছরের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে সেই মেয়াদ বাড়ানো হবে। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে প্রস্তুত, সক্ষম এবং ইচ্ছুক।
এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে এমন গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে—ইরান সম্প্রতি ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি শনিবার ওমানে পৌঁছেছেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা আশা করছেন, ইরান প্রকাশ্যে ঘোষণা দেবে যে তারা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা বন্ধ করবে এবং কোনো ধরনের টোল ছাড়াই আন্তর্জাতিক নৌপথটি উন্মুক্ত রাখবে।

