সঞ্জয় মালাকার :
রাজনগর উপজেলায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের মা ও ছেলেসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।সোমবার (২৯ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মুন্সিবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন—বড়দল গ্রামের ইদ্রিছ আলী চাচার সহধর্মিণী এবং তাঁদের ছেলে জুবের আলী। এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।
পারিবারিক সূত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুন্সিবাজার থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা যোগে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ফিরছিলেন। পথে মুন্সিবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির প্রাইভেট কারের সঙ্গে সিএনজিটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের প্রচণ্ডতায় সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এর আরোহীরা গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে সিলেটের নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে সহ অন্যদের সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ইদ্রিছ আলী চাচার সহধর্মিণী এবং তাঁর ছেলে জুবের আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অবস্থাও সংকটাপন্ন। জানা গেছে নিহতদের পরিবারের অভিভাবক ইদ্রিছ আলী চাচা, তাঁর মেয়ে ও জামাই ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।দুর্ঘটনা কবলিত সিএনজির চালক তোফাজ্জল মিয়া (যিনি সম্পর্কে ছোট ভাই) নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে বড়দল গ্রামসহ পুরো রাজনগর জুড়ে শোকের মাতম চলছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এশিয়ান হাইওয়ের এই অংশে প্রায়ই ট্রাফিক আইন অমান্য করে যানবাহন চলাচল করে, যা দুর্ঘটনার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের এমন অকাল মৃত্যুতে এলাকাবাসী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকার্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এ বিষয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে স্থানীয়রা প্রত্যাশা করছেন।

