আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, এ নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সহিংসতা ও প্রাণহানি ঠেকানো।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কমিশনের সামনে এখন বিশাল দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৫০০টি উপজেলা, ৬১টি জেলা, ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং ৩৩০টি পৌরসভায় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
তিনি বলেন, “গণতন্ত্র শুধু জাতীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, এটি তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি জনগণকে সেবা দেয়, তাই তৃণমূলের গণতন্ত্র আরও গুরুত্বপূর্ণ।”
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে জাতীয় নির্বাচনের সমমানের মানদণ্ডে আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রচেষ্টার কোনো ঘাটতি থাকবে না।
অতীতের সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ২০১৬ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ২৩৬ জন এবং ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১১৬ জন নিহত হন। তার ভাষায়, স্থানীয় নির্বাচনের সময় সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা একটি পুরোনো বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, “লোকাল গভর্নমেন্ট ইলেকশনে মারামারি থামাতে হবে। আমরা কোনো রক্তপাত চাই না।”
সহিংসতা এড়াতে নির্বাচন কমিশন সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাবে বলেও জানান সিইসি। রাজনৈতিক দলসহ সব পক্ষের সহযোগিতা নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও রক্তপাতহীন নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

