কক্সবাজারের উখিয়ায় অবস্থিত রোহিঙ্গা শিবিরে পাহাড় ধসে নারী ও শিশুসহ একখন পর্যন্ত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। টানা ভারী বর্ষণের ফলে সোমবার ভোরে পৃথক কয়েকটি স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় প্রশাসন ও শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারী বৃষ্টির কারণে ক্যাম্পের বিভিন্ন পাহাড়ি ঢাল দুর্বল হয়ে পড়ে। ভোরের দিকে হঠাৎ পাহাড় ধসে একাধিক বসতঘর মাটিচাপা পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়। পরে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আরও কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্বেচ্ছাসেবক, ফায়ার সার্ভিস, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থার কর্মীরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। আহতদের দ্রুত স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টানা বর্ষণের কারণে ক্যাম্পের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড় ধস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি মোকাবিলায় মাইকিংসহ বিভিন্নভাবে সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে বর্ষা মৌসুম এলেই পাহাড় ধস, আকস্মিক বন্যা ও ঝড়ো বাতাসের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। বাঁশ, ত্রিপল ও অস্থায়ী উপকরণ দিয়ে নির্মিত ঘরগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে প্রতিবছরই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য জরুরি ত্রাণ, আশ্রয় এবং চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

