মোহাম্মদ আলম বান্দরবান প্রতিনিধি:
টানা বৃষ্টির কারণে বান্দরবান-থানচি সড়কে বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে পড়েছে। এতে জেলা সদরের সাথে থানচি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
বান্দরবান-থানচি সড়ক ও বান্দরবান-রুমা সড়কের বিভিন্ন জায়গায় পাহাড় ধসে সড়কের অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে চিম্বুক-নীলগিরি অংশের পোড়া বাংলা এলাকায় প্রায় ১০০ মিটার সড়ক ধসে গেছে। নীলগিরি, নীলদিগন্ত ও বলিপাড়া এলাকাতেও বেশি ধসের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়রা জানান, ৮ দিনের ভারী বৃষ্টির পর বেশিরভাগ এলাকা প্লাবিত হয় এবং ধসের কারণে জেলার কয়েকটি সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জীবননগর এলাকায় সকালে বড় আকারের পাহাড় ধসে উপজেলায় প্রবেশের পথ বন্ধ হয়ে যায়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২০ ইসিবি সড়কটি যান চলাচলের উপযোগী করতে কাজ করছে। আজ বান্দরবান থেকে ওয়াই-জংশন অংশে কাজ চলছে, আগামীকাল আরও টিম যোগ দেবে বলে জানিয়েছেন ওয়ারেন্ট অফিসার রাহুল হাসান। সড়কের উপর বিদ্যুতের তার পড়ে থাকায় কাজে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ মুজাহিদ উদ্দিন জানিয়েছেন, জেলার সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। রুমা-থানচি রুটে সড়ক বন্ধ থাকায় বিকল্প হিসেবে সাঙ্গু নদীপথে ইঞ্জিনচালিত নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রিং ত্লাং বম জানান, ধসের কারণে সড়কে কোনো যানবাহন চলছে না। ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনী মাটি সরানোর কাজ করছে। তবে মেরামত শেষ হতে কতদিন লাগবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
বর্ষায় বান্দরবানের পাহাড়ি সড়ক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি বন ধ্বংস ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েছে।
তাই বান্দরবান-থানচি রুটে যারা যাতায়াত করছেন, পাহাড় ধসের কারণে রাস্তায় মাটি-পাথর থাকায় সাবধানের সাথে চলার অনুরোধ রইল। আবহাওয়া খারাপ থাকলে অতি প্রয়োজন ছাড়া এই রুটে ভ্রমণ এড়িয়ে চলুন।

