লন্ডন প্রতিনিধি:
যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সাইফুল ইসলামকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি লন্ডনে অনুষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক সভা, প্রতিবাদ কর্মসূচি ও মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণের পর বাংলাদেশে তার গ্রামের বাড়িতে পুলিশের অভিযান পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গভীর রাতে বাড়িতে গিয়ে সাইফুল ইসলামের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান এবং তিনি দেশে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সাদা পোশাকে থাকা ব্যক্তিরা বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তারা সাইফুল ইসলামের রাজনৈতিক কার্যক্রম, বর্তমান অবস্থান এবং যুক্তরাজ্যে তার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানতে চান। পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, পুলিশ সদস্যরা বারবার জানতে চান তিনি কবে দেশে ফিরবেন এবং তার সঙ্গে কারা যোগাযোগ রাখছেন
জানা যায়, সাইফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে একজন পরিচিত রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল, সাংগঠনিক সভা এবং ছাত্ররাজনীতির নানা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর থেকে তিনি নিজেকে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে অনুভব করেন এবং পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় গ্রহণ করেন
বর্তমানে তিনি লন্ডনে বসবাস করছেন এবং সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। সম্প্রতি লন্ডনে অনুষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক সভা ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তিনি অংশগ্রহণ করেন, যেখানে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিরোধী মতের ব্যক্তিদের ওপর হয়রানির বিষয়ে আলোচনা হয়। ওই সভায় অংশগ্রহণের কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তার পরিবার উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে বলে জানা গেছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশের কয়েকদিন পরই তাদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশি করেন এবং সাইফুল ইসলামের ব্যক্তিগত বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। পরিবারের দাবি, তাদের সঙ্গে কঠোর আচরণ করা হয় এবং ভবিষ্যতে আবারও অভিযান চালানো হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সাইফুল ইসলামের পরিবার বর্তমানে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এলাকাবাসীর অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণেই তাকে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
সাইফুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তি দাবি করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি বাংলাদেশে ফিরে গেলে গ্রেফতার, রাজনৈতিক হয়রানি, জিজ্ঞাসাবাদ, কিংবা মিথ্যা মামলার শিকার হতে পারেন। তাদের মতে, বিদেশে অবস্থান করেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তাকে বিশেষভাবে টার্গেট করা হতে পারে।
যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি রাজনৈতিক নেতা ও মানবাধিকারকর্মীও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের বক্তব্য, সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি রাজনৈতিক কর্মীদের পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ বিভিন্ন সময় সামনে এসেছে। তারা বলেন, রাজনৈতিক মত প্রকাশের স্বাধীনতা একটি মৌলিক অধিকার এবং এ ধরনের ঘটনাগুলো উদ্বেগজনক।
মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পর্যবেক্ষক মনে করেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় অতীতে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে অনেক ব্যক্তি হয়রানি, নজরদারি ও গ্রেফতারের শিকার হয়েছেন। তাদের মতে, দেশে ফিরে গেলে সাইফুল ইসলামের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এদিকে সাইফুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে নিরাপদে থাকলেও বাংলাদেশে ফিরলে তার জীবন, স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তারা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বিদেশে অবস্থানরত রাজনৈতিক কর্মীদের পরিবারকে চাপের মুখে ফেলার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এ ধরনের ঘটনা মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা সরকারি কোনো দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিদেশে অবস্থানরত রাজনৈতিক কর্মীদের কার্যক্রম ও মত প্রকাশকে কেন্দ্র করে নতুন ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশের পর অনেকেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
এদিকে সাইফুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে আরও হয়রানির আশঙ্কা করছেন। তাদের দাবি, রাজনৈতিক কারণে কোনো ব্যক্তি বা তার পরিবার যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

