সংসার মানেই দায়িত্ব, নিয়ম আর হিসাবের এক নিপুণ বুনন। এই বুননে জড়িয়ে থাকা অনেক পুরুষই বিয়ের পর নিজের মতো করে সময় কাটানোর সুযোগ খুব একটা পান না। তাই স্ত্রী কয়েক দিনের জন্য বাবার বাড়ি গেলে অনেক স্বামীর মধ্যেই হঠাৎ এক পুরনো স্বাধীন জীবনের স্বাদ পাওয়ার আনন্দ দেখা দেয়। তবে এই আনন্দ কি স্থায়ী? নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো অনুভূতি?
প্রতিদিনের রুটিন মাফিক জীবন—কখন ফিরতে হবে, কী আনতে হবে, এই দায়িত্বগুলো থেকে কয়েক দিনের জন্য ছুটি মেলে। বিছানায় অগোছালো হয়ে শুয়ে থাকা কিংবা মাঝরাত পর্যন্ত কোনো কারণ ছাড়াই জেগে থাকার এই ক্ষুদ্র স্বাধীনতাটুকু স্বামীরা বেশ উপভোগ করেন।
‘তোয়ালে কেন ভেজা?’, ‘বাইরের খাবার কেন খেলে?’—এই চিরচেনা অনুযোগগুলো থেকে কয়েক দিন দূরে থাকা অনেকের কাছেই স্বস্তিদায়ক মনে হয়। প্রথম দু-একদিন ‘আজ কেউ বকবে না’—এই অনুভূতিটা পুরুষদের মনে বাড়তি উচ্ছ্বাস জোগায়।
স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে বন্ধুমহলে যেন অঘোষিত উৎসব শুরু হয়। রাতভর আড্ডা, গেম খেলা কিংবা বাইরে খাওয়া-দাওয়ার মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া সেই পুরনো আড্ডার দিনগুলো ফিরে আসে।
সংসারের এই বিচিত্র সমীকরণ নিয়ে কথা বলেছেন কয়েকজন সাধারণ ভুক্তভোগী:
আরিফ: “বিয়ের অনেক বছর হয়ে গেলে অনেক সময় সংসারটা কারাগার মনে হতে পারে। তাই বউ বাপের বাড়ি গেলে নিজেকে কয়েক দিনের জন্য সিঙ্গেল ভেবে একটু শান্তি লাগে।”
রাব্বী: “বউকে বলি একটু বাবার বাড়ি যাও, সে যায় না। তার কথা হলো—সে বাচ্চা সামলাবে আর আমি আড্ডা মারব, তা হবে না! এমনকি আমি একা কোথাও ঘুরতে গেলেও সে আমাকে সন্দেহ করে।”
সাব্বির: “বউ না থাকলে ভেজা তোয়ালে রাখা নিয়ে কেউ বকা দেয় না ঠিকই, কিন্তু দিনশেষে ঘরে ফিরলে একটা শূন্যতা কাজ করে। দীর্ঘদিনের অভ্যাস তো, তাই কয়েক দিন পর ফাঁকা ঘর আর একা খাওয়ার কষ্টটাও টের পাই।”
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, স্ত্রী বাপের বাড়ি গেলে স্বামীদের এই খুশি হওয়া মানেই ভালোবাসা কমে যাওয়া নয়। দীর্ঘ সময় একসাথে থাকতে থাকতে মানুষ নিজের অজান্তেই একটু নিজস্ব সময় বা ‘মি-টাইম’ চায়। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এই স্বাধীনতার আমেজ বেশিদিন থাকে না।
কয়েক দিন যেতে না যেতেই নিঃশব্দ ঘর, একাকী খাওয়ার টেবিল আর ফোনের ওপাশ থেকে ‘খেয়েছো?’—এই মেসেজটার অভাব অনেক স্বামীকেই কাতর করে তোলে। তখন স্ত্রীর সেই তথাকথিত ‘বিরক্তিকর’ অভ্যাসগুলোই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন বলে মনে হতে শুরু করে। অর্থাৎ, এই ক্ষণিকের দূরত্বই আসলে বুঝিয়ে দেয় জীবনে সঙ্গীর গুরুত্ব কতটা গভীর।

