সঞ্জয় মালাকার :
সিলেট বিভাগে হামের প্রকোপ দিন দিন আশঙ্কাজনক রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে বিভাগে আরও ৩টি শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে অঞ্চলটিতে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৯ জনে। শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকালের মধ্যে সিলেটের দুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই শিশুরা মারা যায়।
সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩টি শিশুর সবাই অত্যন্ত কম বয়সী।কামরুল (৭ মাস):সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার আলী হুসেনের ছেলে। সে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।কৃষ্ণা (১০ মাস)মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রাজনের মেয়ে। সে-ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়।নিহাদ আহমেদ (৪ মাস)সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার মুকিত আহমেদের ছেলে। শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিলেটে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৯৭ জন রোগী ভর্তি আছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৬৬ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষা করিয়ে মোট ৫৩৪ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে ৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৫ জন সহ সিলেটে এ পর্যন্ত মোট ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্ত ও মৃতের তালিকায় শিশুদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
রাজনগর উপজেলাবাসীর জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা ও সচেতনতামূলক পরামর্শ:
মৌলভীবাজারের পার্শ্ববর্তী কুলাউড়া উপজেলায় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটায় পাশেই অবস্থিত রাজনগর উপজেলার বাসিন্দাদের জন্য হামের ঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে। সংক্রমণ ছড়ানো রোধ করতে এবং শিশুদের সুরক্ষায় রাজনগরবাসীকে জরুরি ভিত্তিতে সচেতন ও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে:
টিকাদান নিশ্চিত করুন: ৯ মাস পূর্ণ হওয়া মাত্রই শিশুকে হামের ১ম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে ২য় ডোজ (MR টিকা) অবশ্যই দিন। কোনো শিশু টিকা বাদ পড়ে থাকলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
উপসর্গ দেখা দিলে করণীয়: শিশুর শরীরে তীব্র জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং চামড়ায় লালচে দানা বা র্যাশ দেখা দিলে অবহেলা করবেন না।
আইসোলেশন বা আলাদা রাখা: ঘরে কোনো শিশুর হাম হলে তাকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখুন। হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে, তাই আক্রান্ত শিশুকে স্কুলে বা বাইরে পাঠানো থেকে বিরত থাকুন।
খাবার ও যত্ন:আক্রান্ত শিশুকে বেশি করে তরল খাবার, মায়ের দুধ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার দিন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বা কবিরাজি চিকিৎসা করাবেন না।
অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত হাসপাতালে নিন: শিশুর শ্বাসকষ্ট হলে, খিঁচুনি হলে বা প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পড়লে দেরি না করে দ্রুত রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা সদরের হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সঠিক সময়ে টিকা দিলে শিশুকে এই প্রাণঘাতী রোগ থেকে পুরোপুরি রক্ষা করা সম্ভব। আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হোন এবং আপনার শিশুকে সুরক্ষিত রাখুন।

