সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পৃথক বিশেষ অভিযানে ৩৯ পিস কথিত ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১ কেজি ৩০০ গ্রাম কথিত গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের সময় আরও একজন পালিয়ে যান।
জেলা গোয়েন্দা শাখা সূত্রে জানা যায়,গত ২৮ জুলাই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পাচাউন এলাকায় প্রথম অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় রুবেল মিয়া ওরফে লেখন মিয়া (৪১)-এর বাড়ি ঘেরাও করলে তার বড় ভাই মো. আব্দুল মতিন ওরফে লেখন মিয়া (৫৫) পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান। পরে রুবেল মিয়াকে আটক করে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ৩৯ পিস খয়েরি রঙের কথিত ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, পলাতক ভাইয়ের সহযোগিতায় বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ইয়াবাগুলো নিজের হেফাজতে রেখেছিলেন।
একই দিনে পৃথক আরেকটি অভিযানে আব্দুর রহমান ওরফে লেদন মিয়া (৫৩) ও মজনু মিয়া (৪২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় আব্দুর রহমানের বসতঘরের বারান্দার কক্ষের একটি চৌকির নিচ থেকে ১ কেজি কথিত গাঁজা এবং মজনু মিয়ার কাছ থেকে আরও ৩০০ গ্রাম কথিত গাঁজা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে উদ্ধার হওয়া গাঁজা নিজেদের হেফাজতে রাখার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুদীপ্ত শেখর ভট্টাচার্য্য জানান,সিডিএমএস (CDMS) যাচাই করে দেখা গেছে,গ্রেপ্তার রুবেল মিয়ার বিরুদ্ধে পূর্বে চারটি,পলাতক আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে দুটি এবং গ্রেপ্তার আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে। তারা পেশাদার মাদক কারবারির সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে শ্রীমঙ্গল থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের নির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন স্থানে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা শাখা।

