সাইফুল ইসলাম বাউফল, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি:
হলুদিয়া পাখি সোনারই বরণ, পাখিটি ছাড়িলো কে।
এমন কালজয়ী গান যে পাখিটি ঘিরে সেই হলুদিয়া পাখি আজ প্রায় বিলুপ্ত। গ্রাম বাংলর রূপ বর্ধনকারী পাখটি এখন আর নেই বললেই চলে। শোনা যায় না শ্রুতিমধুর ডাক| ˆবজ্ঞানিক নাম ড়ৎরড়ষঁং ীধহঃযড়ৎহঁং অর্থাৎ হলুদ সোনাবউ। ইরেজি নাম- ইষধপশ-যড়ড়ফবফ ঙৎরড়ষব যার অর্থ বেনেবউ বা ইষ্টকুটুম পাখি। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এর বিচরণ রয়েছে।
শরীরের পুরো অংশ জুড়ে সোনালী হলুলের উজ্জল রং প্রকৃতির রূপ সৌন্দর্যের শোভা বর্ধন করে পাখিটি। ঠোঁট গোলাপি লালচে। কালো ছোখের মাঝখানে লাল বৃত্ত| গলা, লেজ ও পাখায় কালো রঙ বাড়িয়ে দিয়েছে পাখিটির রূপসৌন্দর্য। স্ত্রী পাখি পুরুষের তুলনায় সামান্য ফ্যাকাশে। শরীরের বেশির ভাগ হলুদ লোম থাকায় হলুদ বা হলদিয়া পাখি নামে পরিচিত এঅঞ্চলের মানুষের কাছে।
স্থানীয় কাছে কুটুম পাখি নামেও পরিচিত। এক সময় এঅঞ্চলের কোন বাড়িতে খুব ভোরে কুটুম পাখির ডাক শুনলে স্থানীয়রা বুঝে নিতো আজ বাড়িতে কোন মেহমান আসবে। তাই এটাকে কুটুম পাখি হিসেবে সবাই চিহ্নিত করেছেন।
দক্ষিণ বাংলার তেঁতুলিয়া বেষ্টিত বাউফলের মানুষ এ পাখির ডাক ‘ওভাই তোর কত ভোগ’ হিসেবে চিহ্নিত করে। পাখির ডাক শুনতে এরকম মনে হলেও সেরকম শব্দ করে উচ্চারণ করতে পারে না। সাংকেতিক হিসেবে এভাবে ধরে নেয়। ইদানিং সহসা দেখা মেলে না জীববৈচিত্রের আলাদা রূপ বহন করা এই কুটুম পাখি।
এক সময় দাদী-নানীর গল্প ছিল পাখিটি ঘিরে। একদিন দুই ভাই একটি জঙ্গলে যান বেড়াতে। সেখানে এক ভাইকে নির্মম ভাবে বাঘের শিকারে পরিনত হয়। অপর ভাই হলুদিয়া পাখিতে রূপ নিয়ে প্রানে রক্ষা পান। সেদিন থেকে বেঁচে যাওয়া পাখিটি বাঘের শিকারে পরিনত ভাইয়ের উদ্দেশ্যে ডাক ধরেছে ‘ওভাই তোর কত ভোগ’। অসলে রূপকাথার গল্পে অনেক কিছুই থাকে যার বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
সাধারণত এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে এদের প্রজনন মৌসুম ধরা হয়। ২-৪টি ডিম দিয়ে থাকে| স্ত্রী-পুরুষ উভয় পাখি মিলে বাসা বাধেঁ। গভীর বনে এরা বসবাস করতে পছন্দ করে। গভীর বনে ঝুলন্ত বাসা বাঁধে কুটুম এবং ডিম থেকে বাচ্চা জন্ম দেয় পাখিটি। বিভিন্ন কিট-পতঙ্গ, ফল ও ফুলের নির্যাস এদের প্রধান খাদ্য।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিসম্পদ অনুষদের ডিন ড. খোন্দকার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আনেক পাখিই এখন বিলুপ্ত। এসকল ছোট পাখির খাবার সাধারণত ফল-মূল ও কিট-পতঙ্গ। বর্তমানে সকল ধরনের ফল-মূলে নানা ধরনের কিটনাশক ব্যাবহারের ফলে পাখি খেয়ে মারা যাচ্ছে। হলুদ পাখি গভীর বনে বসবাস করা প্রাণি। গভির বন তো এখন একেবারে নেই বললেই চলে। এদের প্রজননের ক্ষেত্রে ঘন বন উজার প্রধান বাধা। তাই পাখিটি এখন নজরে আসেই না। সর্বশেষ হলুদ পাখি কবে দেখেছি তা মনে নেই।

