ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযান শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। তার ভাষায়, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্ত অবস্থান বজায় রাখতেই হবে এবং প্রয়োজন হলে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ইসরাইলের টেলিভিশন চ্যানেল ১৪ নিউজকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, হামাস ও হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান, গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় সামরিক তৎপরতা এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতের মাধ্যমে ইসরাইল উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
ইরান প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, কয়েক দশক ধরে কেউ ইরানে হামলার সাহস দেখায়নি, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই বাধা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ঘোষিত ‘পূর্ণ বিজয়’ অর্জনের লক্ষ্য এখনও বাস্তবসম্মত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, এই যুদ্ধের নির্দিষ্ট কোনো সমাপ্তি নেই। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান বাস্তবতায় টিকে থাকতে হলে সামরিকভাবে শক্তিশালী থাকা ছাড়া বিকল্প নেই।
গাজার বাসিন্দাদের অন্যত্র চলে যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি ‘স্বেচ্ছায় স্থানান্তর’-এর কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি গাজায় ভবিষ্যতে ইহুদি বসতি স্থাপনের বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে বলেন, তিনি কথার চেয়ে কাজকে বেশি গুরুত্ব দেন।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, আন্তর্জাতিক চাপ থাকলেও প্রতিটি ইস্যুতে বিশ্বের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধে জড়ানো তার কৌশল নয়।
এদিকে ইসরাইলি দৈনিক হারেৎস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে বর্ণবাদী মনোভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জরিপ অনুযায়ী, অনেক শিক্ষার্থী মনে করে ইসরাইলের কিছু জনগোষ্ঠীর সমাজের অংশ হওয়ার অধিকার নেই।
জরিপে দেখা যায়, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫২ শতাংশ এবং ধর্মনিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী এ ধরনের মতের সঙ্গে একমত। শিক্ষাবিদদের মতে, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে জাতীয়তাবাদী মনোভাব ও বিভাজনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি আরও জোরালো হয়েছে।
অন্যদিকে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানায়, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে রিজার্ভ সেনাদের পরিবারগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্য সংকট উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
রাইখম্যান ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় প্রায় আড়াই হাজার পরিবারের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, সাত বছরের কম বয়সী বিপুলসংখ্যক শিশুর মধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী মানসিক আঘাতের (পিটিএসডি) লক্ষণ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বহু বাবা-মাও বিভিন্ন মাত্রার মানসিক ট্রমায় ভুগছেন।
গবেষকদের সতর্কবার্তা, প্রয়োজনীয় সহায়তা ও চিকিৎসা নিশ্চিত না হলে এই সংকট দীর্ঘমেয়াদে ইসরাইলি সমাজের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

