চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে প্রতিপক্ষদের উড়িয়ে দিয়ে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের সবকটিতেই দাপুটে জয় পেয়েছে লিওনেল মেসির দল। আলজেরিয়াকে ৩-০, অস্ট্রিয়াকে ২-০ এবং সবশেষ জর্ডানকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা।
তবে মাঠে শতভাগ জয়ের এমন উড়ন্ত রেকর্ডের পরও বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার (FIFA) লাইভ র্যাঙ্কিংয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে আর্জেন্টিনা। শীর্ষস্থান হারিয়ে দুই নম্বরে নেমে গেছে আলবিসেলেস্তেরা।
মূলত গ্রুপ পর্বে অন্য গ্রুপে থাকা ফ্রান্সের রেটিং পয়েন্ট আশাতীতভাবে বেড়ে যাওয়ায় আর্জেন্টিনাকে টপকে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানে আরোহণ করেছে ফরাসিরো।
পয়েন্ট অপরিবর্তিত থাকলেও কেন পেছাল আর্জেন্টিনা?
ফিফার লাইভ র্যাঙ্কিংয়ের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের শক্তির ওপর পয়েন্টের উত্থান-পতন নির্ভর করে। জর্ডানের বিপক্ষে গত ২৮ জুনের ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার রেটিং পয়েন্ট ছিল ১৯০৭.৪০, যা এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ, টানা তিন জয়ের পরও মেসিদের রেটিং পয়েন্টে কোনো নতুন যোগ বিয়োগ হয়নি। কিন্তু অন্যদিকে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স নিজেদের গ্রুপে বড় দলগুলোর বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট বাড়িয়ে নেওয়ায় আর্জেন্টিনাকে দ্বিতীয় স্থানে ঠেলে দিয়ে তারা সিংহাসন দখল করেছে।
শীর্ষ ১০ দেশের লাইভ র্যাঙ্কিং পজিশন:
ফিফার হালনাগাদকৃত লাইভ র্যাঙ্কিংয়ে আর্জেন্টিনা ছাড়াও বেশ কিছু দেশের অবস্থানে রদবদল এসেছে:
১ম ও ২য় স্থান: শীর্ষস্থানে ফ্রান্স, দ্বিতীয় স্থানে আর্জেন্টিনা।
৩য় স্থান: এক ধাপ পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে স্পেন (১৮৭৯.৫৮ পয়েন্ট)।
৪র্থ স্থান: ডি আর কঙ্গোর বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয়ের পর গুরুত্বপূর্ণ ১০.৫০ পয়েন্ট যোগ করে নিজেদের চার নম্বর অবস্থানটি শক্তভাবে ধরে রেখেছে ইংল্যান্ড।
৫ম থেকে ৮ম স্থান: পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম স্থানে যথাক্রমে ব্রাজিল, মরক্কো ও নেদারল্যান্ডসের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। অষ্টম স্থানটি ধরে রেখেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল।
শীর্ষ ১০-এ মেক্সিকো: দুর্দান্ত পারফর্ম করে লাইভ র্যাঙ্কিংয়ে এক লাফে চার ধাপ এগিয়ে শীর্ষ দশে (১০ম স্থান) প্রবেশ করেছে মেক্সিকো।
শেষ ৩২-এ আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ‘জায়ান্ট কিলার’ কেপ ভার্দে
র্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ পেছানোর এই দুঃসংবাদ মাথায় নিয়েই আগামী শনিবার (৪ জুলাই ২০২৬) নক-আউট পর্বের ‘শেষ ৩২’ (Round of 32)-এর বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে আসা আফ্রিকার নবাগত দেশ কেপ ভার্দে।
নামে অনভিজ্ঞ হলেও চলতি বিশ্বকাপে কেপ ভার্দে রীতিমতো ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। গ্রুপ পর্বে তারা বিশ্ব পরাশক্তি স্পেনকে রুখে দিয়ে ইতিহাস গড়েছে। এছাড়া লাতিন আমেরিকার অন্যতম শক্তি উরুগুয়ের জালে ২ গোল দিয়ে ম্যাচ ড্র করেছে এবং এশিয়ান জায়ান্ট সৌদি আরবের কাছেও হারেনি।
“আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাবো” — কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজেদের ছোট দল ভাবছেন না কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট হোসে মারিয়া নেভেস। ম্যাচকে কেন্দ্র করে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বড় হুঙ্কার ও প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট হোসে মারিয়া নেভেস অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন:
“আমার বিশ্বাস, আর্জেন্টিনার মতো পরাশক্তিকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েই মাঠ ছাড়বে কেপ ভার্দে। এই ম্যাচে আমাদের দলটির হারানোর কিছু নেই, বরং পাওয়ার আছে অনেক কিছু। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে নিজেদের সর্বোচ্চ সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে ফুটবলে এক নতুন ইতিহাস রচনার সুবর্ণ সুযোগ দেখছেন আমাদের ছেলেরা।”
কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্টের এমন প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জের পর আর্জেন্টিনার ফুটবল ভক্তদের মাঝেও ম্যাচটি নিয়ে বাড়তি উত্তেজনা ও সতর্কবার্তা তৈরি হয়েছে। নক-আউটের এই অগ্নিপরীক্ষায় মেসিরা মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে র্যাঙ্কিংয়ের জবাব দিতে পারেন কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

