ঢালিউডের রুপালি পর্দায় কয়েক দশক ধরে যিনি একই সঙ্গে সৌন্দর্য, অভিনয় আর জনপ্রিয়তার প্রতীক হয়ে আছেন, তিনি চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। সময় গড়িয়েছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু তাঁর রূপের আবেদন আর পর্দার উপস্থিতি যেন দিনকে দিন আরও মোহনীয় হয়ে উঠছে।
তরুণ-তরুণীদের কাছে তিনি আজও এক অনিন্দ্য সুন্দরীর নাম, যাকে ঘিরে মুগ্ধতা কখনো পুরোনো হয় না।সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একগুচ্ছ নতুন ছবি শেয়ার করে আবারও নজর কেড়েছেন এই লাস্যময়ী অভিনেত্রী। গাঢ় সবুজ রঙের জমকালো পোশাকে সোনালি সূক্ষ্ম নকশার আভিজাত্য মিশে তৈরি হয়েছে এক রাজকীয় আবহ। খোলা চুল, হালকা মেকআপ আর বড় দুল—সব মিলিয়ে তাঁর লুক হয়ে ওঠে অনন্য।

ছবিগুলোতে তাঁর মিষ্টি হাসি আর গভীর দৃষ্টি দেখে ভক্তরা মন্তব্য করেছেন— পূর্ণিমা যেন সময়কে হার মানানো এক ‘চিরসবুজ’ রূপসী।নতুন প্রামাণ্যচিত্র ‘অস্তিত্বের লড়াই’চলচ্চিত্রে এখন আগের মতো নিয়মিত না হলেও সম্প্রতি একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্রের শুটিং শেষ করেছেন পূর্ণিমা।
১৯৭০ সালে ভোলায় ঘটে যাওয়া প্রলয়ঙ্করি প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বর্তমান বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে নির্মিত এই প্রামাণ্যচিত্রটির নাম ‘অস্তিত্বের লড়াই’।বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ‘মানসবুর উন্নয়ন সংস্থা (মাউস)’-এর প্রযোজনায় এটি পরিচালনা করেছেন ‘প্রেমের তাজমহল’ খ্যাত নির্মাতা গাজী মাহবুব।
জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গঠনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে এই প্রামাণ্যচিত্রটি প্রদর্শন করা হবে।যেভাবে শুরু ঢালিউড যাত্রা১৯৮৪ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে জন্ম নেওয়া পূর্ণিমার শৈশব কেটেছে সেখানেই। কৈশোরে ঢাকায় আসার পর নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন শিশুশিল্পী হিসেবে ‘শত্রু ঘায়েল’ সিনেমায় প্রথম পা রাখেন তিনি।এরপর মাত্র ১৭ বছর বয়সে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমার মাধ্যমে প্রধান নায়িকা হিসেবে অভিষেক ঘটে তাঁর। প্রথম ছবিতেই তাঁর সহশিল্পী ছিলেন রিয়াজ।
সেই শুরু থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটি ও ক্যারিয়ারের স্বর্ণযুগপূর্ণিমা তাঁর ক্যারিয়ারে মান্না, ফেরদৌস, আমিন খান, শাকিল খান এবং শাকিব খানের মতো শীর্ষ তারকাদের সাথে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন। তবে ঢালিউডের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ও জনপ্রিয় জুটি হিসেবে দর্শকের মনে দাগ কেটে আছে ‘রিয়াজ-পূর্ণিমা’ রসায়ন।

তাঁদের অভিনীত কালজয়ী সিনেমাগুলোর মধ্যে অন্যতম:মনের মাঝে তুমি (২০০৩)হৃদয়ের কথা (২০০৬)আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা (২০০৮)এর মধ্যে ‘মনের মাঝে তুমি’ চলচ্চিত্রটি দুই বাংলায় বাণিজ্যিকভাবে বিপুল সফলতা লাভ করে। ২০১০ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন পূর্ণিমা।ছোট পর্দা ও বিজ্ঞাপন জগতের রানিচলচ্চিত্রের পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই নাচ-গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পূর্ণিমা। ক্যারিয়ারের ব্যস্ত সময়েও টেলিভিশন নাটক, টেলিফিল্ম ও বিজ্ঞাপনে তিনি ছিলেন সমান জনপ্রিয়।
জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘লাল নীল বেগুনী’ ছাড়াও ‘ল্যাবরেটরি’, ‘নিলিমার প্রান্তে’, ‘অমানিশা’, ‘শঙ্খচিল’সহ বহু নাটকে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া গ্রামীণফোন, সিটিসেল, মেরিল বেবি লোশন, বার্জার ঝিলিকের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর মডেল হিসেবেও তিনি নজর কেড়েছেন।ব্যক্তিগত জীবন ও বর্তমান ব্যস্ততা:ব্যক্তিগত জীবনে পূর্ণিমা বর্তমানে আশফাকুর রহমান রবিনের সঙ্গে সংসার করছেন। তাঁর আগের সংসারে ‘আরশিয়া উমাইজা’ নামের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।বর্তমানে বড় পর্দায় পূর্ণিমার উপস্থিতি কম হলেও ভক্তদের জন্য সুখবর হলো—তাঁর অভিনীত ‘জ্যাম’ ও ‘গাঙচিল’ নামের দুটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
ছবি দুটিতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছেন ফেরদৌস এবং আরিফিন শুভ। সিনেমা ছাড়াও বর্তমানে বিভিন্ন টিভি শোর উপস্থাপনা, বিচারকের আসন এবং বিজ্ঞাপনে নিয়মিত দেখা মিলছে এই ঢালিউড কন্যার।

