হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারির অজুহাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহর আটকে দিয়েছে পুলিশ। শ্রীমঙ্গলের ব্যারিকেড ভেঙে এনসিপি নেতারা হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হলেও বুধবার বিকেলে বাহুবল উপজেলার মুছাই এলাকায় পৌঁছালে ফের তাদের পথ রোধ করা হয়।
বাধাপ্রাপ্ত হয়ে রাস্তায় বসেই অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। বৃষ্টির মধ্যেই তারা টানা এক ঘণ্টা সেখানে অবস্থান নেন।
এর আগে বিকেল ৪টার দিকে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে এনসিপির আহ্বায়ক সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি বহর হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় পুলিশ প্রথম দফায় তাদের আটকে দেয়, তবে পরে সেই ব্যারিকেড পেরিয়ে তারা বাহুবল পর্যন্ত পৌঁছান।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারেক মাহমুদ জানান, শহরে ১৪৪ ধারা জারি থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থেই এনসিপি নেতাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। জানা গেছে, মঙ্গলবারের কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এনসিপির ওপর হামলা চালায় বলে এনসিপির অভিযোগ। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বুধবার সকাল থেকে জেলা সদরে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শহরে ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেক জানান, হামলার প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন। তবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারা কর্মসূচি থেকে সরে এসেছেন। সামগ্রিক বিষয়টি তুলে ধরতে বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করা হবে।
অন্যদিকে, হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সফিকুর রহমান সিতু বলেন, হবিগঞ্জ একটি শান্তিপ্রিয় শহর। এখানকার মানুষ অতিথি যেমন ভালোবাসে, তেমনি অসংলগ্ন আচরণও মেনে নেয় না।

