যুক্তরাজ্যের লন্ডনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি রাজনৈতিক সভাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সভাস্থল ও এর আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ এবং হাতাহাতির ঘটনায় অন্তত তিনজনকে আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ।
সোমবার (স্থানীয় সময়) ইস্ট লন্ডন মসজিদ-সংলগ্ন মায়েদা গ্রিল রেস্টুরেন্টে এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
আয়োজক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সভা শুরু হওয়ার আগেই সভাস্থলের বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। পাল্টা অবস্থান নেন এনসিপির কর্মী-সমর্থকেরাও। একপর্যায়ে এনসিপির নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হাসনাত আবদুল্লাহ ও তার সহযোগীরা পার্ক এলাকায় হাঁটার সময় কিছু লোক তাদের অনুসরণ করে নানা মন্তব্য করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা পাশের একটি রেস্তোরাঁয় আশ্রয় নিলে তাদের দিকে ডিম ছুড়ে মারা হয়।
এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এহতেশামুল হকের গায়ে ডিম লাগলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেখানে উপস্থিত যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শাহ শামীমের সঙ্গে তার তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অনতিবিলম্বে ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনার দায়ে লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফসার খান সাদেকসহ অন্তত তিনজনকে আটক করেছে লন্ডন পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিওতে আফসার খানকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ ভ্যানে তুলতে দেখা গেছে। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন ঘণ্টা পর, কঠোর পুলিশি বেষ্টনীর মধ্যে সন্ধ্যা ৯টার দিকে হাসনাত আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান এবং বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষেও তাকে পুলিশি নিরাপত্তায় সভাস্থল ত্যাগ করতে হয়।
অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে সোমবার বিকেলে এলেম পার্ক এলাকায় হাসনাত আবদুল্লাহ ও এহতেশামুল হকের সফরকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কর্মকাণ্ডকে ‘কাপুরুষোচিত’ এবং ‘পূর্বপরিকল্পিত উসকানি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
সংগঠনটি দাবি করে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে আওয়ামী লীগ এখনো ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অসহিষ্ণুতার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণ জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে এ ধরনের রাজনৈতিক অপসংস্কৃতিকে চিরতরে প্রত্যাখ্যান করেছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অবজ্ঞা এবং বিরোধী মতের প্রতি চরম অসহিষ্ণুতাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মূল কারণ ছিল।

