মো. ইলিয়াস সানি, তজুমদ্দিন, ভোলা:
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবলের তীব্র সংকট বিরাজ করছে। ফলে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য কর্মচারীর অভাবে প্রতিদিন শত শত রোগী কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন অচল অবস্থায় পড়ে থাকায় অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসকের অনুমোদিত ২৩টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৪ জন। এতে চিকিৎসকের শূন্যতার হার দাঁড়িয়েছে ৮২ দশমিক ৬১ শতাংশ। নার্সের ৩২টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ২৬ জন। মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ২ জন, অর্থাৎ শূন্যতার হার ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এছাড়া ৪০টি ফিল্ড স্টাফ পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ২৭ জন এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৩৩টি পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ১৪ জন। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের একমাত্র পদে যোগদানকারী চিকিৎসক বর্তমানে প্রেষণে অন্য উপজেলায় কর্মরত থাকায় সেই সেবাও কার্যত বন্ধ রয়েছে।
চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মরত চিকিৎসকদের। একজন চিকিৎসককে একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের রোগী দেখতে হওয়ায় সেবার মানও ব্যাহত হচ্ছে।
হাসপাতালে জুনিয়র কনসালটেন্টের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের ভোলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উচ্চতর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া অপারেশন থিয়েটার থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সেখানে দীর্ঘদিন ধরে কোনো অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ওটির মূল্যবান যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এক্স-রে-সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জামও ব্যবহার সংকটের কারণে কার্যকারিতা হারানোর পথে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবের কারণে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায় না। প্রয়োজনীয় কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষাও হাসপাতালের বাইরে করতে হচ্ছে, এতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই ব্যয় বহন করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. দিব্যেন্দু রায় রাজিব বলেন, “চিকিৎসক সংকটের কারণে সীমিত জনবল দিয়েই ইনডোর ও আউটডোরের সব ধরনের রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ২০১৯ সালে হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও সে অনুযায়ী চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে হাসপাতালের সম্প্রসারিত অবকাঠামোর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার লাখো মানুষ। তারা দ্রুত শূন্য পদগুলোতে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

