বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান গতিপথে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে বলে বিশ্লেষকদের মত। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর এবং মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক–রাজনৈতিক অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের বৈশ্বিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, একসময় যে যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে বিশ্ব ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল, সেই প্রভাব এখন আগের মতো শক্ত অবস্থানে নেই। বরং বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় ওয়াশিংটনকে এখন বেশি কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে মন্তব্য করা হচ্ছে।
চীন ইস্যুতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকের বরাতে বলা হচ্ছে, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতায় চীনের অগ্রগতি এখন বৈশ্বিক শক্তি ভারসাম্যে নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে। তাইওয়ানসহ বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থানগত টানাপোড়েনও নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা চলছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত গোয়েন্দা ও সামরিক বিশ্লেষণভিত্তিক প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে বলা হচ্ছে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পরও ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ অক্ষুণ্ণ রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার ও সামরিক ব্যয়ের ওপর চাপ বাড়ছে বলে কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি কেবল সামরিক নয়, বরং কৌশলগত ও ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
হরমুজ প্রণালীর বাণিজ্যিক চলাচল নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, এ অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়নি, বরং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কৌশলগত অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন ও ইরানের মতো দেশগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সমন্বয় বৈশ্বিক শক্তি কাঠামোকে ধীরে ধীরে বহুমেরু ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের একক প্রভাব আগের তুলনায় সীমিত হচ্ছে কি না—সে প্রশ্ন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখন আরও বেশি আলোচিত হচ্ছে।

