উপমহাদেশের সংগীতের উজ্জ্বল নক্ষত্র আশা ভোঁসলের প্রয়াণে গভীর শোক ও কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বাংলাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা। রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আশা ভোঁসলে। তাঁর এই চিরবিদায়ের খবরে ব্যক্তিগতভাবে চরম আঘাত পেয়েছেন রুনা লায়লা।
আশা ভোঁসলের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর এক আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় রুনা লায়লা বলেন, “পৃথিবীর বড় বড় দু’জন কিংবদন্তি শিল্পী পরপর চলে গেলেন। লতা মঙ্গেশকর দিদি চলে গেলেন, আর এখন আশা দিদিও চলে গেলেন। এমন শিল্পী আর এই পৃথিবীতে জন্মাবে না। আমার কাছে মনে হচ্ছে আমার পৃথিবীটাই শূন্য হয়ে গেল।”
রুনা লায়লা তাঁর ও আশা ভোঁসলের মধ্যকার গভীর সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, “তাঁরা দুজনেই আমাকে ভীষণ স্নেহ করতেন—মায়ের মতোই। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।” তিনি আরও জানান, রুনা লায়লার সুর করা ‘চলে যাওয়া ঢেউগুলো আর ফিরে আসেনি’ গানের রেকর্ডিংয়ের সময় তাঁদের শেষ দেখা হয়েছিল। এরপর নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ থাকলেও গত কয়েকদিন কথা না হওয়ার আক্ষেপ তাঁকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে।
কণ্ঠভেজা আক্ষেপে রুনা লায়লা বলেন, “কিছুদিন ধরে ভাবছিলাম আবার কথা বলব—আজ করব, কাল করব—এই ভাবনায় আর করা হয়নি। শেষ কথাটাও বলা হলো না। যখন মনে হয়েছিল দিদিকে ফোন করি, যদি তখনই করতাম, তাহলে হয়তো আজ এই আফসোসটা থাকত না। নিজের ভেতরে খুব কষ্ট হচ্ছে।”
আশা ভোঁসলে এবং রুনা লায়লার মধ্যকার বন্ধুত্ব ও পেশাগত শ্রদ্ধা ছিল সর্বজনবিদিত। দুই দেশের দুই কিংবদন্তির এই আত্মিক টান উপমহাদেশের সংগীত ইতিহাসে এক অনন্য উদাহরণ। আশা ভোঁসলের প্রয়াণে রুনা লায়লার এই হাহাকার আসলে কোটি সংগীতপ্রেমীর হৃদয়েরই প্রতিধ্বনি। লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোঁসলের প্রয়াণের মাধ্যমে উপমহাদেশের প্লেব্যাক সংগীতের একটি সোনালী যুগের পরিসমাপ্তি ঘটল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

