দেশে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর বিস্তার ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) এখন দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ও অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারের কারণে অনেক জীবাণু এখন প্রচলিত ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলছে। ফলে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ছে এবং রোগীদের সুস্থ হতে বেশি সময় লাগছে।
তিনি জানান, শুধু মানুষের মধ্যেই নয়, পরিবেশ ও প্রাণিজগতেও এসব প্রতিরোধী জীবাণুর বিস্তার বাড়ছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা না থাকাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণার আওতায় মানবস্বাস্থ্য, প্রাণিস্বাস্থ্য ও পরিবেশ খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আধুনিক মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবরেটরি স্থাপন এবং বিদ্যমান ল্যাবগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দ্রুত জীবাণু শনাক্তকরণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং গবেষণা কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচিও অব্যাহত রয়েছে।
সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

