জামারপুর জেলা প্রতিনিধি :
জামালপুরের মেলান্দহে ১০ হাজার টাকার জন্য একজন অটো চালককে খুন করা হয়েছে। মূল আসামীকে গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই এর পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।
এর আগে সোমবার(২২ জুন) দিবাগত মধ্যরাতে ইসলামপুর থানার চরপটিমারি ইউনিয়নের বেনুয়ারচর এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক ব্যাক্তির অর্ধ গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহটি একটি লাগেজে ভরা ছিলো। মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে মেলান্দহ উপজেলার কতিপয় লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় নায়েব আলী হিসেবে সনাক্ত করে। নায়েব আলীর পরিবারের লোকজন কোমরের তাবিজ ও গায়ের শার্ট দেখে তাকে সনাক্ত করে। নিহতের বাড়ী মেলান্দহ থানার কাজাইকাটা এলাকায়।
এ বিষয়ে নিহত নায়েব আলীর ছেলে মামুন মিয়া বাদী হয়ে মঙ্গলবার( ২৩ জুন) ইসলামপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় নামীয় কাউকে আসামী করা হয়নি।
মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান জামালপুরের পিবিআই। পিবিআই তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যাকান্ডের প্রধান আসামীর অবস্থান সনাক্ত করে। মঙ্গলবার ( ২৩ জুন) দিবাগত মধ্যরাতে প্রধান আসামী নাহিদুল ইসলাম মেলান্দহ থানার চকরদহ সরদারবাড়ী এলাকার নিজ বাড়ী থেকে গ্রেপ্তার হয়।
গ্রেপ্তার নাহিদ ইসলামের দেয় তথ্য মোতাবেক হত্যাকান্ডের বিভিন্ন আলামতসহ আরও ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তারা হলেন-সোলাইমান কবির, শফিকুল ইসলাম, আব্দুল কাদের, রাসেল হোসেন ও সাগর মিয়া। তাদের মেলান্দহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা মেলান্দহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।
এ বিষয়ে ২৪ জুন (বুধবার) সন্ধ্যায় জামালপুরের পিবিআই এর পলিশ সুপার পংকজ দত্ত নিজ কার্যালয়ে একটি প্রেসব্রিফিং করেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, প্রধান আসামী নাহিদ ইসলাম তথ্য দিয়েছে তার ব্যাক্তিগত প্রয়োজনে ১০ হাজার টাকার প্রয়োজন ছিলো।
প্রয়োজন মিটাতে গিয়ে অটো চালক নায়েব আলীকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর নায়েব আলীর অটো রিক্সা নিয়ে পালিয়ে যায় আসামী নাহিদ ইসলাম। অটোর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিক্রি করে নাহিদ তার টাকার প্রয়োজন মিটায়। তিনি বলেন, প্রধান আসামী আদালতে স্বীকার উক্তিমূলক জবান বন্দি দিয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান আছে। নাহিদকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকান্ডের জট খুলে যাবে।

