দেশের সেবা খাতে দুর্নীতির মাত্রা আগের তুলনায় বেড়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ( (টিআইবি)। সংস্থাটির সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে সেবা খাতে দুর্নীতির পরিমাণ ১৫.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। জরিপটি ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিভিন্ন সেবা খাতে মোট প্রায় ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া মানুষের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।
টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, সরকারি সেবার মধ্যে দুর্নীতি ও ঘুষের ক্ষেত্রে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে পাসপোর্ট সেবা। এ খাতে ৮৪.৪ শতাংশ গ্রাহক দুর্নীতির এবং ৭৬.৬ শতাংশ গ্রাহক ঘুষের শিকার হয়েছেন বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এই প্রতিষ্ঠানে ৭৯.৩ শতাংশ সেবাগ্রহীতা দুর্নীতির এবং ৬৩.৫ শতাংশ ঘুষের শিকার হয়েছেন।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, ভূমি অফিস, বিচার সংশ্লিষ্ট সেবা, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবাতেও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জরিপে আরও বলা হয়েছে, দেশের মোট ৬৩.৬ শতাংশ মানুষ অন্তত একটি সেবা খাতে ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে ৮১.৬ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে দুর্নীতির শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
পরিস্থিতির উন্নয়নে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, সেবাদান প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য কার্যকর আচরণবিধি প্রণয়নের সুপারিশ করেছে টিআইবি।
বিশ্লেষকদের মতে, সেবা খাতে জবাবদিহি ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা জোরদার না হলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।

