অমৃত জ্যোতি, (মধ্যনগর) সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার চারটি ইউনিয়নেই পল্লীবিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে প্রায় ২০হাজার গ্রাহক অতিষ্ঠ জনজীবন পার করছেন।
মধ্যনগর উপজেলায় বৃষ্টি অথবা ঠান্ডা আবহাওয়ার দিনে বিদ্যুৎ সচল থাকলেও রৌদ্রেময় ঝলকানীর দিনে হঠাৎ দেখা মিললেও ৪/৫/৭/১০ঘন্টা পর্যন্ত লোডশেডিং দিয়ে থাকে পল্লী বিদ্যুৎ।যার ফলে তীব্র গরমে দিনে এবং রাতে বৈদ্যুতিক পাখা ব্যবহার করতে পারছেনা না গ্রাহকেরা।
নির্ঘুম রাত পার করছেন তারা। মধ্যনগর এলাকার শিশু,কিশোর,আবাল বৃদ্ধ, শিক্ষক শিক্ষার্থী সহ সকল বয়সী জনমানুষেরা হচ্ছেন ভুক্তভোগী ও জনজীবনে নেমেছে অশান্তি। এছাড়াও ব্যহত হচ্ছে সরকারী,বেসরকারি অফিসিয়াল কার্য্যক্রম।বিদ্যুতের উপর ভরসাকারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীগণের ব্যবসায় লোকসান গুনছে। এনিয়ে চরমভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগী মধ্যে মধ্যনগর বিপি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের একাদশ শ্রেণীর পরীক্ষার্থী পরাগ সরকারের সাথে কথা বললে তিনি জানান,রাতে লেখাপড়ার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলেগেলে আর পড়তে পারিনা। সম্মুখেই বর্ষ-পরিবর্তন পরীক্ষা মানসিক ভাবে আমি অনেকটাই বিপর্যস্ত।গতকাল রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় পড়তেইও পারিনি ঘুমাতেও পারিনি।
ভুক্তভোগী সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা বিধান তালুকদার বলেন,মধ্যনগরের বিদ্যুৎ বিভ্রাট খুবই অস্বস্তিকর ও অসহনীয়।বাংলাদেশ অন্যকোথাও এত বিভ্রাট হয়না।চার বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপ মহাযজ্ঞ চলছে যা আমরা মধ্যনগরবাসী উপভোগ করতে পারছি না।তাছাড়া শিশু বাচ্চাদের নিয়ে দুর্বিসহ জীবন অতিবাহিত করছি।
পল্লী বিদ্যুৎ কতৃপক্ষের মধ্যনগর অভিযোগ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা লাইনম্যান গ্রেড-১ মোঃমতিউর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান,মধ্যগর অফিসে ১২হাজার ও মহিষখলা অফিসের আওতায় ৮হাজার মোট ২০হাজার গ্রাহক রয়েছেন এউপজেলায়। তাছাড়া ধর্মপাশায় গ্রাহক সংখ্যা ২৫হাজার। সবমিলে ৪৫হাজার গ্রাহকের জন্য প্রতিদিন সাড়ে ৬মেঃওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে।তার অনুকূলে প্রতিদিন লোড হয় মাত্র সোয়া ৩মেঃওয়াট বিদ্যুৎ।চাহিদার তুলনায় সরবরাহ না পাওয়ার কারণে লোডশেডিংয়ের সমস্যা হচ্ছে প্রতিনিয়তই।

