২০০৪ সালে নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি শেষ করে ডা. কুশল যখন ঢাকা মেডিকেল কলেজে, আর ডা. সুষমা রেজা রাখি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে। ঠিক তখনই এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁদের প্রথম দেখা। সেই আলাপ থেকে বন্ধুত্ব, আর ২০০৬ সালের দিকে তা রূপ নেয় গভীর ভালোবাসায়।
অনেকেরই হয়তো জানা নেই, সম্পর্কের এক কঠিন মোড়ে ডা. কুশল জানতে পেরেছিলেন যে শারীরিক জটিলতার কারণে সুষমার মা হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। একজন পুরুষের পিতৃত্বের স্বপ্ন যেখানে প্রশ্নের মুখে, সেখানেও তিনি ভালোবাসাকেই জয়ী করেছিলেন। সুষমাকেই বেছে নিয়েছিলেন অর্ধাঙ্গিনী হিসেবে।
পরে অবশ্য সব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তাঁদের ঘর আলো করে আসে তিন সন্তান মাশিয়া, উমার ও আরিব।
বাংলাদেশের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পাওয়ার কাপল ছিলো ডা. সায়েদুল আশরাফ কুশল ও ডা. সুষমা রেজা।
তাঁরা দুজনে একসঙ্গে অসংখ্য সেমিনার, ওয়ার্কশপ এবং লাইভ সেশনে অংশ নিয়েছেন, যেখানে সুখী দাম্পত্য, সন্তানদের সঠিক লালন-পালন এবং পারিবারিক বন্ডিং নিয়ে কথা বলতেন।
মানুষগুলো নিজেদের গড়া প্রতিষ্ঠান ‘লাইফস্প্রিং’-এর ব্যানার থেকে প্রতিনিয়ত “নিজের পরিবারকে সময় দিন” বা “সম্পর্ক সুন্দর রাখুন” এমন ইতিবাচক বার্তা দিয়ে লাখ লাখ মানুষকে অনুপ্রাণিত করতেন।
বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যের ট্যাবু ভাঙা এবং হাজারো ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগানোর কারিগর ছিলেন তাঁরা। অথচ দিনশেষে জীবন তাঁর নিজস্ব নিয়মে চলে। সম্পর্ক যেমন জীবনের একটা সুন্দর অধ্যায়, কখনো কখনো বিচ্ছেদও জীবনের একটা অনিবার্য বাস্তব অংশ হয়ে দাঁড়ায়। জোর করে একটা অসুখী সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেয়ে সম্মানের সাথে আলাদা হওয়া অনেক শ্রেয়। জীবনানন্দ দাশের সেই বিখ্যাত লাইনটি মনে পড়চ্ছে,
প্রেম ধীরে মুছে যায়, নক্ষত্রেরও একদিন মরে যেতে হয়…

