রাবি প্রতিনিধি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর ওপর ছাত্রদল নেতার অতর্কিত হামলা ও ছুরিকাঘাতের ঘটনায় বিক্ষোভ করেছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন সংলগ্ন প্যারিস রোডে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ সময় রাকসু নেতৃবৃন্দ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের মধ্যে ছিল ‘আমার ভাইকে মারলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘শিক্ষা-সন্ত্রাস একসাথে চলে না’, ‘বিচার চাই, সন্ত্রাসীদের বিচার চাই’, ‘সন্ত্রাসীদের ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবে না’ ইত্যাদি।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আবুল হাসান বলেন, “চারুকলা এলাকায় কিছু বহিরাগত প্রায়ই দর্শনার্থীদের হেনস্থা করে। গতকাল বিকালে আমাদের এক সহপাঠী তার বান্ধবীকে নিয়ে সেখানে গেলে তাকে আটকিয়ে হেনস্থা করা হয়। এ সময় ছাত্রদল নেতা হাসিব তার কাছে টাকা দাবি করে। প্রতিবাদ করলে তাকে হুমকি দেওয়া হয়, এমনকি প্রক্টরকে ফোন দেওয়ার ঘটনাতেও ভয়ভীতি দেখানো হয়।”
তিনি আরও বলেন, “পরে রাতে আমরা প্যারিস রোডে অবস্থান করছিলাম। এ সময় হাসিব এসে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ওই ঘটনায় তার সঙ্গে অন্য কেউ ছিল না।”
একই বিভাগের শিক্ষার্থী সজিবুর রহমান বলেন, “দোষীদের শাস্তির দাবিতেই আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। ক্যাম্পাসে এমন ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে। আমরা চাই সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক এবং আহত শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে কোনো ঝুঁকিতে না পড়ে।”
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, “শিক্ষার্থীর ওপর এ ধরনের হামলা পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য লজ্জাজনক। কোনো সংগঠনের পরিচয়ে কেউ যদি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিচার না হলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের নিরাপদ ভাবতে পারবে না।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে প্যারিস রোড সংলগ্ন এলাকায় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবুল হাসান ও আজাহারুল ইসলামের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ছাত্রদল নেতা হাসিবের বিরুদ্ধে বহিরাগতদের নিয়ে হামলা ও ছুরিকাঘাতের অভিযোগ ওঠে।

