মো আলম, বান্দরবান প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম পার্বত্য জেলা আঞ্চলিক পরিষদ এর বাস্তবায়নে ও ইকিউএমএস কনসাল্টিং লিমিটেড (EQMS) এর আয়োজনে চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে জলবায়ু সহনশীল জীবিকায়ন উন্নয়ন ও জলাধার (ওয়াটারশেড) ব্যবস্থাপনা ভিত্তিক প্রকল্প (CRLIWM-CHT) পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণের উপর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে বান্দরবান বালাঘাটা সদর মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের হলরুমে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান এলজিইডির সুপারভিশন ইঞ্জিনিয়ার রাফায়েল ত্রিপুরা, বিভিন্ন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, প্রকল্পের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন ইকিউএমএস কনসাল্টিং লিমিটেডের সোশ্যাল সেফগার্ড এক্সপার্ট মেহেদি হাসান এবং এনভায়রনমেন্টাল এক্সপার্ট শেখ আবিদ মো. সাদ। সভায় অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দেন। তারা প্রকল্প বাস্তবায়নকালে সম্ভাব্য সমস্যা এবং সেগুলোর সমাধান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।
প্রকল্পের কর্মকর্তারা প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে জানান, চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে জলবায়ু সহনশীল জীবিকা উন্নয়ন ও জলাধার ব্যবস্থাপনা বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো পাহাড়ি অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি এবং স্থানীয় জনগণের টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করা।
প্রকল্পের আওতায় কমিউনিটি অবকাঠামো উন্নয়ন, ওয়াটারশেড ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও বাজার সংযোগ বৃদ্ধি এবং দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, কাঁচা ও এইচবিবি সড়ককে বিটুমিনাস সড়কে উন্নীতকরণ, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
এছাড়াও, প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণের জন্য পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) সম্পন্ন করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলায় পরিবেশ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে জনমত যাচাই সভাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ সময় প্রেজেন্টেশনে আরো জানানো হয় প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাও গঠন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ সহজেই তাদের অভিযোগ জানাতে পারবেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি জীবিকা উন্নয়ন, বাজার ও সেবায় প্রবেশ সহজ হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

