মো:শাহ জামাল শাওন, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:
হিন্দু সম্প্রদায়ের ছেলে মিথ্যে পরিচয়ে মুসলিম পরিবারের এক মেয়ের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে শারীরিক সম্পর্ক করে এরপর বিয়ে করার প্রলোভনে ঢাকা আশুলিয়া থেকে ওই মেয়েকে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের বাবুপাড়া গ্রামে নিয়ে আসে। পরের দিন মেয়ে তার পরিবারের লোকজনকে দেখে সন্দেহ হলে হিন্দু- মুসলিমের সত্য মিথ্যার উন্মোচন হয়।গার্মেন্টসে চাকরি করার সুবাদে তাদের পরিচয় হয়। এক বছর চলে তাদের প্রেমের সম্পর্ক। তারপর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার ধ*র্ষ*ণও করে।
গতকাল মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায় গ্রামের কিছু লোকজন নুরুজ্জামান মিয়ার বাড়িতে একটি মেয়েকে পাহারা দিচ্ছে জিজ্ঞেস করলে জানা যায় গত রবিবার রাত ১১ টার দিকে ভাঙ্গামোড় বাবুপাড়া গ্রামের রতন চন্দ্র বিশ্বাশ (খূধী)’র ছেলে শ্রী: তপন কুমার(২২) কুমিল্লা জেলার চাঁদপুর উপজেলার উত্তর সাঙ্গাছাল মোল্লা গাজী গ্রামের আব্দুল লতিফের মেয়ে লামিয়া (১৭)’কে নিয়ে আসে এবং তিন দিন হিন্দু পরিবারে মেয়েটিকে রাখে ও শারীরিক সম্পর্ক করে।তপনের পরিবারের চালচলন দেখে মেয়েটি টের পায় তারা হিন্দু। মেয়েটি বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকলে বহিরাগতদের মারধর ও নির্যাতন চালিয়ে অচেতন করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় ওই এলাকার মুদি দোকানদার নুজ্জামালের বাড়িতে রাখে।
এ বিষয়টা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চলকে সৃষ্টি হয়েছে। ধামাচাপা দিয়ে মেয়েটিকে নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রকারভেতি দেখান কিছু স্থানীয় লোক।
পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয় লোকজন জানতে পারলে থানা পুলিশকে অবগত করলে কর্তব্যরত এএসআই শাহানুর রহমান স্থানীয় মেম্বারকে নিয়ে তপনের বাড়িতে যায় এবং মেয়েকে বিচারের আশ্বাস দিয়ে আসেন। মেয়ে এখন পর্যন্ত কোন ধরনের আইনি সহায়তা পায়নি বলে জানায় বরং মেম্বার এসে মেয়েটির হাতের ফোন নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন এবং তাদের সম্পর্ক যাবতীয় আলামত ধ্বংস করেছে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে সংবাদ সংগ্রহ না করার জন্য সংবাদ কর্মীকে বাধা প্রদান করেন স্থানীয় এক যুবক।
৭ নং ওয়ার্ড মেম্বার বাবলা জানান, ফুলবাড়ী থানার পুলিশ আমাকে ডেকে নিয়ে যায় তপন চন্দ্রের বাড়িতে যাওয়ার পরে হিন্দু ছেলে ও মুসলিম মেয়ে বিষয়টি জানতে পেয়ে এলাকায় ছেলেদের এত অপরাধ করেছে সেহেতু তার শাস্তি দিয়ে স্থানীয়ভাবে আমাকে সমাধান করার জন্য দায়িত্ব দিয়ে পুলিশ প্রশাসন চলে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে স্থানীয় ও বহিরাগত কিছু লোক এসে তারা বিষয়টি দেখবে বলে আমাকে জানায় আমি সেখান থেকে চলে আসি আর কোন খোঁজ খবর রাখিনি।
এ বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদ হাসান নাঈম জানান,ছেলে মেয়ের ঘটনার বিষয়টি নিয়ে ৯৯৯ থেকে ফোন আসলে সাথে সাথে ঘটনা স্থলে পুলিশ যায় এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে,যেহেতু ছেলে মেয়ে দুজনেই ভিন্ন ধর্মের তাই স্থানীয় মেম্বার বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে পুলিশ সেখান থেকে চলে আসে।

