বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে বিশাল এক লড়াই শেষে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে পর্তুগালের অভিযান শেষ হওয়ার পাশাপাশি এটি ৪১ বছর বয়সী কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টও হতে পারে।
টেক্সাসের আরলিংটনে অনুষ্ঠিত বহুল প্রতীক্ষিত ‘ইবেরিয়ান ডার্বি’ শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনায় ভরা। দুই দলই রক্ষণভাগে ছিল অত্যন্ত সংগঠিত। বল দখলে এগিয়ে থাকলেও স্পেন প্রথমার্ধে পর্তুগালের শক্তিশালী ডিফেন্স ভাঙতে পারেনি। অন্যদিকে সুযোগ পেলেও রোনালদোদের আক্রমণও স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনের দৃঢ়তায় ব্যর্থ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে স্পেন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল, মিকেল ওইয়ারসাবাল ও অ্যালেক্স বায়েনা একের পর এক আক্রমণ সাজালেও পর্তুগালের গোলরক্ষক ডিয়োগো কস্তা দুর্দান্ত কয়েকটি সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।
যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে, তখনই আসে সিদ্ধান্তসূচক মুহূর্ত। অতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে ফেরান তোরেসের দারুণ পাস থেকে বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই জোরালো শটে গোল করেন মিকেল মেরিনো। সেই গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন এবং শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।
গোল হজমের পর শেষ মুহূর্তে মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল। অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, ব্রুনো ফার্নান্দেস ও বের্নার্দো সিলভারা সমতায় ফেরার চেষ্টা চালালেও স্পেনের রক্ষণভাগ আর কোনো সুযোগ দেয়নি। ইনজুরি সময়ের শেষদিকে বের্নার্দো সিলভার একটি হেড বারের ওপর দিয়ে চলে গেলে পর্তুগালের শেষ আশাটুকুও নিভে যায়।
এই ম্যাচকে ঘিরে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় ছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ম্যাচের আগেই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপই হতে যাচ্ছে তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। তাই স্পেনের কাছে এই পরাজয় বিশ্বকাপ মঞ্চে তাঁর দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য যাত্রার সমাপ্তি ঘটিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় রোনালদো বলেন, তিনি ‘স্বচ্ছ বিবেক’ নিয়েই বিদায় নিচ্ছেন, কারণ জাতীয় দলের জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছেন।
স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ম্যাচ শেষে মিকেল মেরিনোর প্রশংসা করে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তিনি সবসময় দলের জন্য পার্থক্য গড়ে দেন। অন্যদিকে পর্তুগালের মিডফিল্ডার ব্রুনো ফার্নান্দেস স্বীকার করেন, দ্বিতীয়ার্ধে স্পেন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং তাদের মানসম্পন্ন ফুটবলের কাছে পর্তুগাল পিছিয়ে পড়ে।
এই জয়ের ফলে স্পেন বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে বেলজিয়াম। ইউরোপের দুই পরাশক্তির এই লড়াইকে ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আকর্ষণীয় কোয়ার্টার ফাইনালগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

