দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাদিক রিয়াজ চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করে বিক্ষোভ করেছেন মনোনয়ন বঞ্চিত তিন প্রার্থীর সমর্থকরা।
সোমবার (১০ নভেম্বর) সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত বিরল উপজেলার কাঞ্চন মোড়ে এ কর্মসূচি চলে। এতে বিরল-কাহারোল ও দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে যান চলাচল। ফলে পথচারী, অফিসগামী, স্কুলছাত্রছাত্রী, রোগীবাহী গাড়ি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বক্তারা অভিযোগ করেন, বিএনপির প্রার্থী সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক আওয়ামী লীগের সাবেক প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর ভাতিজা। তাদের দাবি, “দলের সংকটকালে তিনি মাঠে ছিলেন না, এখন আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন।” বক্তারা তার প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেন, “দাবি না মানা হলে বৃহত্তর আন্দোলন করা হবে।”
বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন বিরল পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি ইস্কান্দার রহমান, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ভিপি হামিদুর রহমান ও উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য নিজাম উদ্দিন প্রমুখ।
অবরোধ চলাকালে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ।
ট্রাকচালক মো. রশিদুল ইসলাম বলেন, “দুই ঘণ্টা ধরে ট্রাক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। মালামাল সময়মতো ঢাকায় পৌঁছাতে পারব না, ক্ষতি আমাদেরই। মাল নষ্ট হলে ক্ষতিপূরণ কে দিবে আমাকে?
অটোচালক শামসুল হক বলেন, “দুই ঘণ্টা ধরে জ্যামে বসে আছি। যাত্রী নেই, আয় নেই। রাজনীতি হোক, কিন্তু রাস্তা বন্ধ করে কেন?
দোকানদার মফিজ উদ্দিন বলেন, দোকানে কোনো ক্রেতা আসে নাই। রাস্তাঘাট বন্ধ থাকলে মানুষ আসবে কিভাবে?
পথচারী মিতালী বেগম বলেন, “বাচ্চাকে স্কুল থেকে আনতে দেরি হয়ে গেছে। এমন কষ্ট আর না হোক।
রোগীবাহী গাড়ির চালক আমিনুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজন বৃদ্ধ রোগীকে দিনাজপুরে নিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হলো। এটা অমানবিক।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে, কিন্তু জনগণকে জিম্মি করা ঠিক না।”
অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের রাস্তা ছাড়ার অনুরোধ জানায়। তবে প্রায় তিন ঘণ্টা পর পথচারী ও চালকদের ক্ষোভের মুখে অবরোধ তুলে নিতে বাধ্য হয় আন্দোলনকারীরা।
পরে তারা কাঞ্চন মোড়ে প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে সাদিক রিয়াজের প্রতীকী দড়ি টানার নাটকীয় কর্মসূচি পালন করেন এবং শ্লোগান দেন— “দল বিক্রি নয়, ত্যাগীদের অধিকার চাই।”
এ বিষয়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক বলেন, “জনগণকে জিম্মি করে এমন ভোগান্তি সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মনোনয়ন বঞ্চিত কয়েকজন ব্যক্তি ও তাদের সমর্থকরা নিজেদের দাবি আদায়ের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন।
তিনি আরও বলেন, “তাদের যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তা কেন্দ্রীয় বিএনপি বা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে লিখিতভাবে জানাতে পারেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিষয়টি দেখছেন এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন।”
সাদিক রিয়াজ অভিযোগ করে আরও বলেন, “মনোনয়ন বঞ্চিত তিন প্রার্থীর সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেছি, এমনকি নিজে তাদের বাড়িতে গিয়েছি। কিন্তু তারা সাড়া দেননি। বরং বিভিন্নভাবে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন এবং দলীয় ঐক্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছেন— যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

