সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে বাবাকে কুড়াল দিয়ে হত্যার অভিযোগে সৌদি প্রবাসী ছেলে মো. ফয়াজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (০৩ জুলাই) দিবাগত রাত ২টার দিকে ঢাকার কদমতলী থানার পাগলা ওয়াসা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে জুড়ী থানার ৮ নম্বর গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের মন্ত্রিগাঁও গ্রামের নিজ বাড়ির উঠানে পারিবারিক কলহের ঘটনা ঘটে। এ সময় ফয়াজ মিয়া তাঁর বাবা সুলতান আলীকে পেছন দিক থেকে কুড়াল দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর আহত সুলতান আলী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
ঘটনার পর ফয়াজ মিয়া পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টিকে দুর্ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি জানান,তাঁর বাবা উঠানে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছেন। তবে ফয়াজের ভাই আয়াজ মিয়ার স্ত্রী শামীমা আক্তার এবং বড় ভাই সামছু মিয়ার স্ত্রী হোছনা বেগম ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
পরে নিহতের মেয়ে হ্যাপি বেগম ও ফয়াজ মিয়া আহত সুলতান আলীকে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হলে ফয়াজ মিয়া জানান,তিনি পরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়িতে ফিরবেন। কিন্তু হাসপাতাল থেকে তিনি পালিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে।
পরদিন ২৭ জুন সুলতান আলীর দাফনের সময় ফয়াজ মিয়াকে বাড়িতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। এ সময় শামীমা আক্তার ও হোছনা বেগম পরিবারের সদস্যদের জানান, ফয়াজ মিয়াই কুড়াল দিয়ে মাথার পেছনে আঘাত করে সুলতান আলীকে হত্যা করেছেন।
পরে স্বজনরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানান। তাঁদের পরামর্শে মরদেহ দাফন না করে জুড়ী থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে নিহতের ছেলে সাহেদ মিয়া বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে হত্যা মামলা রুজু হয়।
মামলা রুজুর পর তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মজিবুর রহমান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার পাগলা ওয়াসা এলাকায় অভিযান চালান। সেখান থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ফয়াজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান,জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার ফয়াজ মিয়াকে আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

