সত্যজিৎ দাস:
মৌলভীবাজারের চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী নির্মাই শিববাড়ী,তথা শ্রীশ্রী বাণেশ্বরনাথ মহাদেব মন্দির এবং দয়াময়ী কালীবাড়ির ধর্মীয় কার্যক্রম,সেবামূলক উদ্যোগ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনাকে আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট একটি স্থায়ী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
নবগঠিত কমিটির সভাপতি এবং শ্রীশ্রী বাণেশ্বরনাথ মহাদেব মন্দিরের নির্মাতা ডাঃ সত্যকাম চক্রবর্তী বলেন,নির্মাই শিববাড়ী কেবল একটি উপাসনালয় নয়,এটি ভক্তজনের আস্থা, ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক চেতনার এক সুপ্রাচীন তীর্থভূমি। এখানে প্রতিদিনের পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি মন্দিরের উন্নয়ন,সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এর ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।
তিনি বলেন,মন্দিরকে যুগোপযোগী ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে বেশ কিছু উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ,ভক্ত ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন,শিক্ষাকেন্দ্র ও পাঠাগার গড়ে তোলা,দাপ্তরিক কার্যক্রমের জন্য পৃথক ভবন নির্মাণ,রন্ধনশালা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজনের জন্য একটি আধুনিক কনফারেন্স হল প্রতিষ্ঠা। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মন্দির প্রাঙ্গণ আরও সুশৃঙ্খল,নিরাপদ ও জনকল্যাণমুখী হয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ ধর পার্থ বলেন,শ্রীশ্রী বাণেশ্বরনাথ মহাদেব মন্দির বা নির্মাই শিববাড়ী এবং দয়াময়ী কালীবাড়িকে একটি আধুনিক,ডিজিটাল ও আদর্শ মন্দির হিসেবে গড়ে তোলাই কমিটির প্রধান লক্ষ্য। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পবিত্রতা বজায় রেখে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা,প্রযুক্তিনির্ভর সেবা এবং ভক্তদের জন্য উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।
তিনি আরও বলেন,মন্দির ও কালীবাড়ির উন্নয়ন শুধু একটি কমিটির একার দায়িত্ব নয়। ভক্ত, শুভানুধ্যায়ী,প্রবাসী এলাকাবাসী এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের আন্তরিক সহযোগিতায় এই পবিত্র প্রতিষ্ঠানগুলো আরও সমৃদ্ধ হবে।
এ সময় নবগঠিত কমিটির সদস্যরা মন্দিরের সার্বিক উন্নয়ন,ধর্মীয় কার্যক্রমের সুষ্ঠু পরিচালনা এবং মানবিক ও সেবামূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নে সকল ভক্ত,শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

