হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা অব্যাহত থাকলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, রকেট বা অন্য কোনো অস্ত্র দিয়ে হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র জবাবে তেহরানের আশপাশের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেবে।
বুধবার (২২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে সমুদ্রপথে হামলার যেকোনো ঘটনার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, টানা ১১তম রাতের মতো ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌযানের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে—এমন সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ইরানের সামরিক অপারেশন কেন্দ্র, নৌ সক্ষমতা, বিমান হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক সরবরাহ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। একই সঙ্গে গত তিন মাসে হরমুজ প্রণালিতে ৩০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। এছাড়া তাবরিজ, চাবাহার, কোনারাক ও বুশেহরসহ কয়েকটি শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বুশেহরেই ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত।
ট্রাম্প এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে নাতাঞ্জের কাছে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ একটি পারমাণবিক স্থাপনা। এ বিষয়ে ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, এমন হামলা হলে সেটিকে আঞ্চলিক যুদ্ধের আরও বড় বিস্তার হিসেবে দেখা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বন্দর অবরোধের হুমকি দেওয়ার পর ট্রাম্প তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। হুথিরা বাব আল-মান্দাব প্রণালি সৌদি জাহাজের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৪ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।
উল্লেখ্য, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সামরিক অভিযান বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে (MoU) সই করেছিল। তবে সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার পর সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে গেছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

