আব্দুর রহিম রিয়াদ, ডিমলা(নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডিমলায় বুড়ি তিস্তা নদী খনন প্রকল্প বাতিলের দাবিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিরুদ্ধে মশালমিছিল করেছে এলাকাবাসি।দীর্ঘ বছর থেকে এই নদী খনন নিয়ে পাউবোর লোকজনের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে,হয়েছে একাধিক মামলাও।সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে যে কোনো মুহুর্তে বড় রকমের সংঘাতের আশঙ্কা করছেন অনেকেই।
গত শুক্রবার রাতে উপজেলার কুটিরডাঙ্গা গ্রামে হাজার-হাজার নারী-পুরুষ ও শিশু মশাল হাতে মিছিল করেন।এলাকাবাসির অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে হাজার হাজার পরিবার আবাদি জমি এ ভিটেমাটি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পথে বসবে।এসব জমিতে আবাদ হয় ধান, ভুট্টা আলু, মরিচ, পিঁয়াজসহ বছরে তিন ধরণের অধিক ফসল। মশাল মিছিল শেষে বক্তব্য দেন, জাহিদুল ইসলাম জাদু,আব্দুল আলিম,হেকিম শামিম।এ সময় তারা অভিযোগ করে বলেন,পানি উন্নয়ন বোর্ডে বুড়ি তিস্তা ব্যারেজ এলাকার প্রায় এক হাজার ২ শত ১৭ একর জমি ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নামে অধিগ্রহণ করেছে।
বুড়ি তিস্তা নদী খনন হলে জলঢাকা উপজেলার গোলনা ইউনিয়নের ও ডিমলা সদর ইউনিয়নের কুটিরডাঙ্গাসহ পাঁচ গ্রামের কয়েক হাজার পরিবারকে বসতভিটা, ফসলের জমি ও জীবিকাসহ সব হারিয়ে পথে বসতে হবে।২০০৯ সাল থেকে এই নদী নিয়ে আন্দোলন চলছে।২০১৮ সাল থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড এ পর্যন্ত ৭৫০ জন কৃষকের নামে ১১ টা মিথ্যা মামলা দিয়েছে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধেও নীলফামারী আদালতে সিভিল মামলা দায়ের করা হয়েছে।জমির কাগজপত্র মোতাবেক মূল মালিক আমরা হওয়া সত্ত্বেও পানি উন্নয়ন বোর্ড এই জমিতে খনন প্রকল্প করার সিদ্ধান্ত নেয়।জীবন বাঁচানোর জন্যই বাধ্য হয়ে আমরা প্রতিবাদ করছি।এই মশাল মিছিলের মাধ্যমে আমরা সরকার কে স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই আমরা কোনভাবেই বুড়ি তিস্তা নদী খনন চাই না। অবিলম্বে এই জনবিরোধী রাক্ষুসে প্রকল্প বাতিল করে আমাদের জীবন ও বসতভিটাসহ তিনের অধিক ফসলি জমি রক্ষা করতে হবে।
এ বিষয়ে নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান বলেন, বুড়ি তিস্তা খননের জন্য ২০২১ সালের মে মাসে ৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে ৫ জন ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন ১ হাজার ২ শত১৭ একর জমির মধ্যে বুড়ি তিস্তার মূল জলধারার ৬৬৭ একর জমি খননের প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে বলে জানান।

