আবু জাফর বিশ্বাস,
দক্ষিণাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রধান বিদ্যাপীঠ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দেড় দশক পেরোলেও এখনো স্থায়ী প্রশাসনিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ১৫ বছরের এই সময়ে সাতজন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করেছেন।
তাঁদের মধ্যে চারজনকেই আন্দোলনের মুখে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদ ছাড়তে হয়েছে। বাকি উপাচার্যরাও নানা বিতর্ক, অসন্তোষ ও তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বিদায় নিয়েছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রত্যাশিত গতি পায়নি।
সর্বশেষ নবনিযুক্ত উপাচার্য ড. মামুন অর রশিদ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের আগেই তাঁকে ঘিরে ক্যাম্পাসে পক্ষে-বিপক্ষে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার বিকেলে তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে একদল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী স্বাগত জানালেও অপর একটি পক্ষ তাঁর অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভের ডাক দেয়। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে সৃষ্টি হয় চাপা উত্তেজনা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত সাতজন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রথম উপাচার্য ছিলেন ড. হারুনর রশীদ। এরপর দায়িত্ব পালন করেন ড. এস এম ইমামুল হক, ড. ছাদেকুল আরেফিন মাতিন, ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া, ড. শুচিতা শরমিন, ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম এবং বর্তমানে ড. মামুন অর রশিদ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের দলাদলি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অভাব এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে প্রতিষ্ঠানটি বারবার অস্থিরতায় পড়েছে। গবেষণা ও একাডেমিক উৎকর্ষের জায়গাতেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি।
শিক্ষার্থীদের একাংশের ভাষ্য, অতীতের প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি সংকট নিরসনে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে নতুন উপাচার্যের কাছে তাদের প্রত্যাশা অনেক। তবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই বিরোধিতা শুরু হওয়ায় নতুন প্রশাসনের পথ সহজ হবে না বলেও মনে করছেন অনেকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়-কে দ্রুত স্থিতিশীল প্রশাসনের আওতায় আনতে হবে। দলীয় প্রভাব ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক বলয় ভেঙে শিক্ষা ও গবেষণাকেন্দ্রিক পরিবেশ তৈরি না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব নয়।
নতুন উপাচার্যের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের আস্থার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে পুনর্গঠন করা।

