ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলা ও সহিংসতা থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত শান্তি পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও পুরো গাজাজুড়ে অবিরত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। রোববার (২ আগস্ট) দিনভর গাজার উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকায় চালানো এসব হামলায় অন্তত ১৯ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার সকালে গাজা শহরের একটি ফ্ল্যাটে ইসরায়েলি হামলায় একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী, তার স্বামী এবং তাদের অনাগত সন্তান রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বোমার বিকট ও মারাত্মক বিস্ফোরণের আঘাতে মায়ের গর্ভ থেকে শিশুটি বাইরে ছিটকে পড়ে।
অন্যদিকে, গৃহহীন ও বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো জীবন বাঁচাতে বিভিন্ন অস্থায়ী তাঁবুতে আশ্রয় নিলেও সেখানেও রক্ষা মিলছে না; নিয়মিত হামলা চালানো হচ্ছে সেসব আশ্রয়েও। হামলায় বেঁচে যাওয়া অনেকে নিজের ভিটেমাটিতে ফিরে এসে দেখছেন তাদের ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্বল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
এর আগে মার্কিন প্রশাসন থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে চুক্তির ফলে ইসরায়েলি হামলা ও ড্রোন উড্ডয়ন বন্ধ হবে, পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা, ত্রাণ সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের সুযোগ তৈরি হবে। তবে স্থানীয় অধিবাসীদের মতে, বাস্তবে এসব প্রতিশ্রুতির কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন নতুন করে স্বজন ও আশ্রয় হারিয়ে চরম হতাশা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষ।
বর্তমানে গাজা শহর, খান ইউনিস এবং দেইর আল-বালাহ সহ পুরো উপত্যকার কোথাও ফিলিস্তিনিদের জন্য কোনো নিরাপদ স্থান অবশিষ্ট নেই বললেই চলে।

