ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা আরও বাড়ানোর বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের পর ২০৩০ সাল থেকেই ৬৪ দলের আসর চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
সুইজারল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ব্লু স্পোর্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর সদস্য দেশগুলোর প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে। তার মতে, বিশ্বকাপ কেবল কয়েকটি শক্তিশালী অঞ্চলের জন্য নয়; বিশ্বের প্রতিটি দেশের জন্য এটি স্বপ্নের একটি মঞ্চ হওয়া উচিত।
ইনফান্তিনো বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ফুটবলের মান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অপেক্ষাকৃত ছোট বা উদীয়মান দেশগুলোকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ বাড়ানো হলে তারা ফুটবল উন্নয়নে আরও বেশি বিনিয়োগ ও আগ্রহ দেখাবে।
বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বাড়ানোর আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের মার্চে ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে উরুগুয়ের ফুটবল কর্মকর্তা ইগনাসিও আলোনসো প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ৬৪ দলের বিশ্বকাপের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবলও ২০৩০ সালের শতবর্ষের বিশ্বকাপ থেকে এই ফরম্যাট চালুর পক্ষে মত দেয়।
ফিফা ২০১৭ সালে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করার সিদ্ধান্ত নেয়, যা প্রথমবার বাস্তবায়িত হয় ২০২৬ সালের আসরে। ইনফান্তিনোর দাবি, নতুন ফরম্যাটটি সফল হয়েছে এবং এর ফলে আরও বেশি দেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে।
যদি ৬৪ দলের প্রস্তাব অনুমোদন পায়, তাহলে বিশ্বকাপের কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন আসবে। সম্ভাব্য পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৬৪টি দলকে ১৬টি গ্রুপে ভাগ করা হতে পারে, যেখানে প্রতিটি গ্রুপে থাকবে চারটি করে দল। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল নকআউট পর্বে উঠবে। সে ক্ষেত্রে ম্যাচের সংখ্যা বর্তমান ১০৪ থেকে বেড়ে প্রায় ১২৮-এ পৌঁছাতে পারে।
২০৩০ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন করবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। তবে বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে উদ্বোধনী ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে। ৬৪ দলের ফরম্যাট চালু হলে দক্ষিণ আমেরিকার এসব দেশেও আরও বেশি ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে প্রস্তাবটি নিয়ে সবাই একমত নন। উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার সেফেরিন ৬৪ দলের বিশ্বকাপকে ‘ভালো ধারণা নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, এতে প্রতিযোগিতার মান ও ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা। তিনি মনে করেন, অতিরিক্ত দল যুক্ত হলে বাছাইপর্বের গুরুত্ব কমে যেতে পারে এবং টুর্নামেন্ট পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানি-ও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এটি আন্তর্জাতিক ফুটবলের সামগ্রিক ক্যালেন্ডার ও কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ২০৩৮ বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়ে আগ্রহী এবং প্রয়োজন হলে ৬৪ দলের আসর আয়োজনের সক্ষমতাও তাদের রয়েছে।
ফিফা জানিয়েছে, এখনো ৬৪ দলের বিশ্বকাপ চালুর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সদস্য দেশগুলোর প্রস্তাব, বিভিন্ন কনফেডারেশনের মতামত এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ফিফা কাউন্সিল।
ফলে ২০৩০ সালের শতবর্ষের বিশ্বকাপ ৬৪ দলের হবে কি না, তার উত্তর জানতে ফুটবল বিশ্বকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

